৪৪তম ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশীপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২৬ মৌসুমে রোববার “ই” গ্রুপের ম্যাচে চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়ামে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে রাঙামাটি জেলা দল। নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে হবিগঞ্জের কাছে ৩০২ রানের বিশাল ব্যবধানে হার মেনে টুর্নামেন্ট থেকে কার্যত লজ্জার বিদায় নিতে হয়েছে পাহাড়ের প্রতিনিধিদের।
টসে জিতে ব্যাটিং নেওয়া হবিগঞ্জ শুরু থেকেই রাঙামাটির বোলারদের ওপর চড়াও হয়। তিন ব্যাটারের হাফ সেঞ্চুরিতে ৪৮.৫ ওভারে ৩৩৯ রানের পাহাড় গড়ে তারা। জয় হোসেন ৬৬, আবু সুফিয়ান ৮০ ও জাহিদুল হক ৫৫ রানের দাপুটে ইনিংস খেলেন। রাঙামাটির বোলাররা ছিলেন পুরোপুরি অসহায়। রাশেদুল ইসলাম শান্ত ৪টি, সাজ্জাদ ৩টি ও মোবারক হোসেন লেমন ১টি উইকেট নিলেও রান বন্যা থামাতে পারেননি কেউই।
৩৪০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রাঙামাটির ব্যাটিং লাইনআপ যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। মাত্র ১২.৫ ওভারে ৩৭ রানে অলআউট—স্কোরবোর্ড যেন এক নির্মম ব্যর্থতার সাক্ষী! দলের সর্বোচ্চ রান ভাস্কর খীসার, মাত্র ৭! বাকিরা যেন মাঠে নামতেই ভুলে গিয়েছিলেন ব্যাট করতে।
হবিগঞ্জের আরমান মিয়া আগুন ঝরানো বোলিং করে ৬ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ৭ উইকেট তুলে নেন। তানভীর হোসেন ৫ বলেই ৩ উইকেট নিয়ে রাঙামাটির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও নেত্রকোনা ও কক্সবাজারের কাছে যথাক্রমে ৬৬ ও ১৭০ রানে হেরে টুর্নামেন্টে হতাশার ছাপ রেখেছিল রাঙামাটি। প্রশ্ন উঠেছে দল নির্বাচন নিয়েও। এদিন সাবেক অধিনায়ক মোঃ ইলিয়াছকে বাদ দিয়েই একাদশ সাজানো হয়—এমন সিদ্ধান্ত এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার কেন্দ্রে।
দলের সঙ্গে কোচ হিসেবে মহিতোষ দেওয়ান ও ম্যানেজার হিসেবে ফজলুর রশিদ থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তার কোনো ছাপ দেখা যায়নি। টানা ভরাডুবিতে রাঙামাটির ক্রিকেট এখন আত্মসমালোচনার মুখে।