সবজির দামে অগ্নিঝড় মাগুরার বাজারে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস
মাগুরায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ সংকটের প্রভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সবজির বাজারে। প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় পৌঁছেছে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজার ঘুরে দেখা যায়, আলু, পেঁপে ও গাজর ছাড়া অধিকাংশ সবজির দামই এখন ঊর্ধ্বমুখী। বেগুন, পটোল ও ঢ্যাঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকায়। বরবটি, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, শিম, শজনে ডাঁটা ও করলার দামও ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ক্রেতারা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি কিনতেই এখন দ্বিগুণ-তিনগুণ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। পুরাতন বাজারের এক ক্রেতা বলেন, “আলু বাদে প্রায় সব সবজির দামই ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
এক বেসরকারি চাকরিজীবী হোসেন আলী বলেন, “জিনিসপত্রের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে, কিন্তু আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। আগে যে সবজি ৪০–৫০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তার দ্বিগুণ দিতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজার থেকে সরবরাহ কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান পুরাতন বাজারের এক বিক্রেতা। বর্তমানে বাজারে আলু ২০ টাকা, পেঁপে ও গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, পটোল ও ঢ্যাঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং অন্যান্য সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ভোজ্যতেলের বাজারেও অস্বস্তি বিরাজ করছে। সরবরাহ সংকটের কারণে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে নিত্যপণ্য।
অন্যদিকে মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় কিছুটা কম। ডিমের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সরবরাহ কম থাকায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বড় তেলাপিয়া ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙাশ ২০০ টাকা এবং কই মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে মাগুরার নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।