বরিশালে বিয়েতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রেমিকাকে নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর বগুড়া রোডের রাফি মঞ্জিল নামক বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে সানজিদা কবির অনিতা নামের ওই প্রেমিকার লাশটি উদ্ধার করে। এর আগেই প্রেমিক যুবক মইনুল ইসলাম হিমু (৩০) পালিয়ে গেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পেগাসিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাবেক সেনা সদস্য মহসিন কবিরের মেয়ে সাজনিদা কবির আনিতার সাথে ঝালকাঠির কাটপট্টির মিল্টন আকনের ছেলে মইনুল ইসলাম হিমুর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সানজিদা মাঝে মঝ্যেই হিমুর বগুড়া রোডের ওই বাসায় আসা-যাওয়া করতেন বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। রাফি মঞ্জিলের ৬ তলার এই ফ্ল্যাটটিতে হিমুর বৃদ্ধ মাও বসবাস করেন।
কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে মেয়েটি প্রেমিক হিমুর বাসায় আসেন। বিকেল ৩টার দিকে ওই ভবন থেকে কোতয়ালী থানায় ফোন করে হত্যাকান্ডের বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ওই ফ্লাট থেকে সানজিদা কবির অনিতার লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশ ধারনা করছে, নিজেদের মধ্যেকার সম্পর্কের তিক্ততা নিয়ে যুবতীকে হত্যা করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করার একটি সন্দেহ করা হচ্ছে। কিন্তু অভিযুক্ত মইনুলকে আটক বা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়ার আগে বিস্তার কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানায় পুলিশ।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, সানজিদা কবির অনিতার প্রেমিক মইনুল ইসলাম হিমুর (৩০) পিতা মহসীন কবির শাহী ঝালকাঠী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের দ্বায়িস্ব পালন করছেন। এর আগে তার পূত্র হিমু করোনাকরীন সময়ে ঝর্না নামের এক তরুনীকে বিয়ে করে। বিয়ের পরপরই পারিবারিক অশান্তি দেখা দিলে পিতা পূত্র মিলে ঝর্নাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ঝালকাঠী সদর থানায় একটি হত্যা মালা দায়ের করা হলে পিতা পূত্র উভয়ই গ্রেফতার হয়ে কয়েক মাস জেল খাটেন। ওই মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে। হিমুর বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার কারনে সানজিদা কবির অনিতা বিয়েতে অস্বীকৃতি জানানোর কারনে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারনা।
বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল-মামুন উল ইসলাম জানান, প্রাণ বিয়োগান্তের ঘানাটিতে প্রাথমিকভাবে খুন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তরুণীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের অভিযোগে মইনুলকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।’