শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা-এর কুচাইপট্টি ইউনিয়নের বসকাঠি গ্রামে ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন মো. জসিম উদ্দিন। জীবনসংকটে থাকা স্ত্রী মিনারা বেগমকে বাঁচাতে তিনি নিজের একটি কিডনি দান করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৩২ বছর বয়সী মিনারা বেগম প্রায় দুই বছর ধরে উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায়, তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। একই সঙ্গে তার পেটে একটি টিউমারও ধরা পড়ে। এতে পরিবারে নেমে আসে গভীর দুশ্চিন্তা।
ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার মাধ্যমে টিউমারের সমস্যা সমাধান হলেও কিডনি প্রতিস্থাপন নিয়ে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। প্রথমে মিনারার মা কিডনি দিতে রাজি হলেও হৃদরোগজনিত সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায় একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি জসিম উদ্দিন কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গত ৫ মার্চ ঢাকার শ্যামলীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তিনি নিজের একটি কিডনি স্ত্রীর শরীরে প্রতিস্থাপন করেন। সফল অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে মিনারা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
২০০৭ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় জসিম ও মিনারার। তাদের একমাত্র ছেলে তামিম আল মারুফ নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। দীর্ঘদিন ঢাকায় বসবাস করে স্বাভাবিক জীবনযাপন করলেও ২০২৪ সালের শুরুতে মিনারার অসুস্থতা তাদের জীবনে বড় সংকট তৈরি করে।
জসিম উদ্দিন বলেন, “স্ত্রীর এমন অবস্থায় কী করব বুঝতে পারছিলাম না। তখন মনে হয়েছে—বাঁচলে দুজনেই বাঁচব, আর মরলেও একসঙ্গে মরব। তাই নিজের ইচ্ছাতেই কিডনি দিয়েছি।”
অন্যদিকে মিনারা বেগম বলেন, “স্বামীর এই ত্যাগ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। আল্লাহর রহমতে এখন আমরা ভালো আছি।”
এই মানবিক ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। স্থানীয়রা এটিকে ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।