সিরাজগঞ্জ জেলায় সংক্রামক রোগ হাম এর প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। গত কয়েকদিনে জেলায় ৩৯ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও বর্তমানে ১৫ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই টিকা নেওয়ার আগেই সংক্রমিত হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরা।
সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান বলছে চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে হাম রোগী গণনা শুরু হয়। শনিবার সকালের রিপোর্ট অনুযায়ী মোট ৩৯ জন শিশুর দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে।
বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে
শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ১২ জন এবং উল্লাপাড়া,বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ১ জন করে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইতোমধ্যে ২৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল-এ আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে কাতরাচ্ছে ছোট ছোট শিশুরা। আক্রান্তদের শরীরে প্রথমে জ্বর ও ঠান্ডা, পরে ফুসকুড়ি এবং অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন,প্রথমে ঠান্ডা ও জ্বর হয়। পরে শরীরে হাম দেখা দেয়। এরপর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।কিন্তু হাসপাতালে সময়মতো ভ্যাকসিন পাওয়া যায় না। আমার ছেলে শ্বাস নিতে খুব কষ্ট পাচ্ছে। এক সপ্তাহ চিকিৎসা নেওয়ার পরও পুরোপুরি ভালো হয়নি।
ডা. মশিউর রহমান রিয়াদ জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই টিকা নেওয়ার আগেই আক্রান্ত হয়েছে। অনেকের বয়স এখনো টিকা নেওয়ার উপযোগী হয়নি,আবার কেউ কেউ টিকা নিয়েও সংক্রমণ থেকে রেহাই পায়নি। এছাড়া অনেক শিশুর ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
এ বিষয়ে ডা. মো. নুরুল আমিন বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। ইতোমধ্যে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিশেষ ইউনিট চালু করা হয়েছে।
হামের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় দ্রুত শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশেষ করে শিশুদের জ্বর,ফুসকুড়ি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।