নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে অপহরণের পর এক কিশোরীকে হত্যা করার ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিহত কিশোরীর মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানা-এ মামলা দায়ের করেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মহিষাসুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, অভিযুক্ত ধর্ষক নূরার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব, এবায়দুল্লাহ ও হোসেন বাজার এলাকার গাফফার। তবে এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত নূরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নরসিংদী জেলা পুলিশ-এর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক জানান, বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে জেলা ও জেলার বাইরে অভিযান অব্যাহত আছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে ছয়জন বখাটে কিশোরী আমেনাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাবেক মেম্বার ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান বিচার করার দায়িত্ব নেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অপরাধীদের সঙ্গে দফারফা করে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং কোনো কার্যকর মীমাংসা ছাড়াই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি ধর্ষিতার পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
বিচার না হওয়ায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ঘটনার ১৫ দিন পর বখাটে চক্রটি কিশোরী আমেনাকে তার বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে পুনরায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করে মহিষাসুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেতে ফেলে রেখে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।