ট্রাম্প আগে জানিয়েছিলেন, তার প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ১৮৬ মিলিয়ন পাউন্ড) এই বলরুমটি হোয়াইট হাউসের বর্তমান কাঠামোর কাছেই তৈরি হবে।বে মূল ভবনের কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। তিনি বলেন, ‘এটি বর্তমান ভবনের সঙ্গে মিশে যাবে না, বরং কাছাকাছি থাকবে এবং বর্তমান ভবনের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে। আমি এই ভবনের সবচেয়ে বড় ভক্ত। এটি আমার প্রিয় জায়গা।আমি এটিকে ভালোবাসি।’সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বলরুমের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।’ তিনি লিখেছেন, ‘১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিটি মার্কিন প্রেসিডেন্টই চেয়েছেন হোয়াইট হাউসে এমন একটি বলরুম থাকুক। যেখানে বড় আয়োজন, রাষ্ট্রীয় ভোজ ও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান করা যাবে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবনের দক্ষিণ পাশে বেশ কয়েকটি ভারী নির্মাণযন্ত্র দেখা গেছে। কিছু যন্ত্রে মার্কিন পতাকাও টানানো ছিল। ট্রাম্প বলেন, ‘ইস্ট উইং সম্পূর্ণ আলাদা একটি অংশ, যদিও এটি মূল ভবনের সঙ্গে সংযুক্ত। ইস্ট উইংয়ের দক্ষিণ দিকজুড়ে থাকা ঢেকে রাখা প্রবেশপথের অংশটি ভেতর থেকে পুরোপুরি খালি করে ফেলা হয়েছে। হোয়াইট হাউস ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা জাতীয় উদ্যান পরিষেবা পরিচালনা করে। তবে প্রেসিডেন্ট সাধারণত সংস্কার বা পরিবর্তনের ব্যাপারে বিস্তৃত ক্ষমতা রাখেন।
এনপিএসের সাবেক প্রধান ইতিহাসবিদ রবার্ট কে সাটন বিবিসিকে বলেন, ‘হোয়াইট হাউসে নির্মাণকাজ বা পরিবর্তন হলে জনগণের উদ্বেগ নতুন কিছু নয়, এর ইতিহাসই এমন।’
তিনি জানান, সাধারণত এমন প্রকল্পের ক্ষেত্রে কঠোর পর্যালোচনা প্রক্রিয়া থাকে। নকশা, স্থপতি, খরচ ও ঐতিহাসিক দিক সবকিছুই বিশদভাবে যাচাই করা হয়। কিন্তু এই প্রকল্পে সেই নিয়ম মানা হয়েছে বলে মনে হয় না। সাটন বলেন, ‘এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী ভবন। অথচ আমরা জানি না আসলে কী হচ্ছে—এটা খুবই অনুপযুক্ত।’
তিনি আরো জানান, নতুন বলরুমে ৬০০ থেকে ৯০০ জন পর্যন্ত মানুষ ধারণ করতে পারবে বলে শোনা যাচ্ছে। হোয়াইট হাউস কিছু নকশা প্রকাশ করেছে, যেখানে শতাধিক আসন ও সোনালি ঝাড়বাতিসহ একটি বৃহৎ অভ্যন্তরীণ কাঠামোর ধারণা দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে নির্মাণ শুরু হবে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যেই জাতীয় উদ্যান পরিষেবা ও যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এই প্রকল্পের মূল ঠিকাদার হিসেবে ক্লার্ক কনস্ট্রাকশন এবং নকশার দায়িত্বে ম্যাকক্রেরি আর্কিটেক্টসকে নির্বাচিত করা হয়েছে। সিক্রেট সার্ভিস বলেছে, তারা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করবে।
ম্যাকক্রেরি আর্কিটেক্টসের প্রধান জিম ম্যাকক্রেরি বলেন, ‘হোয়াইট হাউসের সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে এমন একটি দৃষ্টিনন্দন সংযোজনের দায়িত্ব পেয়ে আমি সম্মানিত।’
সাটন সতর্ক করে বলেন, সাধারণত এ ধরনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে দীর্ঘ পর্যালোচনা প্রক্রিয়া থাকে, যেন পরিবর্তনগুলো কার্যকর ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। কিন্তু এই প্রকল্পটি তাড়াহুড়ো করে বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘হোয়াইট হাউসকে সবসময় জনগণের বাড়ি বলা হয়। তবে এটি এখন যেন কেবল ট্রাম্পের রুচির প্রতিফলন হয়ে যাচ্ছে।’
ট্রাম্পের আগে অনেক প্রেসিডেন্টই হোয়াইট হাউসে পরিবর্তন এনেছেন। বারাক ওবামা টেনিস কোর্টকে এমনভাবে সংস্কার করেছিলেন যাতে তা বাস্কেটবল খেলারও উপযোগী হয়।
রিচার্ড নিক্সনের সময় হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সুইমিং পুলকে প্রেস রুমে রূপান্তর করা হয়, যেখানে আজও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই পুলটি ১৯৩৩ সালে প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যিনি পোলিও রোগের চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিয়মিত সাঁতার কাটতেন।