কম্বোডিয়ার মানবাধিকার কমিশন বলছে, থাই সেনাদের এই ‘ভৌতিক শব্দ’ সম্প্রচার দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলার হুমকি সৃষ্টি করেছে। কম্বোডিয়ার সিনেট প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, তিনি মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদিকে বিষয়টি অবহিত করেছেন।তারা জাতিসংঘে থাইল্যাণ্ডের উচ্চ-মাত্রার শব্দ ও কর্কশ আওয়াজ বাজানোর বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘেও অভিযোগ তুলেছে বলে জানান হুন সেন।চিঠিতে বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রাম থেকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বাসিন্দারা জানিয়েছেন— থাই সেনারা রাতভর লাউডস্পিকারে ‘ভূতের আর্তনাদের মতো শব্দ’ বাজাচ্ছে, যার সঙ্গে কখনো বিমান ইঞ্জিনের গর্জনের শব্দর মতোও হয়গত শুক্রবার থেকে টানা চার রাত কম্বোডিয়ার সেরেং ও প্রে চ্যান সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা এসব ভয়ানক শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। কমিশন জানিয়েছে, এ ধরনের ভয়ংকর শব্দ দীর্ঘ সময় ধরে বাজানোয় সীমান্তের মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে, মানসিক অস্থিরতা বাড়ছে, এমনকি শারীরিক অস্বস্তিও তৈরি হচ্ছে।মঙ্গলবার এক বৈঠকে হুন সেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে উত্তেজনা হ্রাসে সহায়তা করার জন্য ধন্যবাদ জানান। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ রয়ে গেছে।
বুরাপা টাস্ক ফোর্সের কমান্ডার বেনজাপল ডেচাতিওয়ং বলেন, ‘তারা যা খুশি অভিযোগ করুক, আমরা থাই মাটিতেই কাজ করেছি। আমার সেনারা সারা রাত পাহারা দিচ্ছে, তাদের জেগে রাখার জন্যই এই ব্যবস্থা। এটা আমাদের জমি। ওরা যা খুশি মামলা করুক, আমার কিছু যায় আসে না।’
গত জুলাইয়ে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে পাঁচ দিন ধরে চলা সংঘর্ষে ডজনখানেক মানুষ নিহত হন এবং ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। জুলাই ২৮ তারিখে একটি যুদ্ধবিরতির চুক্তি হলেও পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত।