নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি দুজন কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে সচিব হলেও নানা বাধায় সময়মতো চেয়ারে বসতে পারেননি। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রহমান তরফদারকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে পদায়ন করা হলেও সচিবের চেয়ারে বসতে পারেননি বিসিএস ১৫তম ব্যাচের ওই কর্মকর্তা। বিষয়টি নিয়ে কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন ছাপার পরদিন তাঁকে সরকারি কর্মকমিশনে পদায়ন করা হয়। এর আগে গত ৩ আগস্ট পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব এস এম শাকিল আখতারকে পদোন্নতি দিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি ই-মেইলে যোগদানপত্র দিলেও উপদেষ্টার আপত্তির কারণে সশরীরে সচিবের চেয়ারে বসতে পারেননি। পরে গত ২০ আগস্ট মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব নিয়োগ পান বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। বিনা বাধায় তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিলেও শাকিল আখতার এখনো সচিবের চেয়ার পাননি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী স্বৈরশাসনের বিদায়ের এক বছর পরও বিশৃঙ্খল প্রশাসনের শৃঙ্খলা ফেরেনি। অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি যেন স্থায়ী সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের সচিব নিয়োগে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রশাসনে চরদখলের মতো চেয়ার দখলের প্রতিযোগিতায় নামেন কিছু আমলা। ফ্যাসিবাদের সহযোগী ডিসিদের প্রত্যাহার করে নতুন ডিসি নিয়োগ দিতে গিয়ে ঘটে লঙ্কাকাণ্ড। ডিসি নিয়োগ নিয়ে প্রশাসন ক্যাডারের একাধিক কর্মকর্তা হাতাহাতি ও ধ্বস্তাধ্বস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। জনপ্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে এক ঘণ্টা ওয়াশরুমে আটকে রাখেন ডিসি নিয়োগে বঞ্চিতরা। সর্বশেষ শিক্ষা সচিব ও জনপ্রশাসন সচিব নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। এমনকি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে একটি দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা অতীতের সব রেওয়াজ ভেঙে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যা এখন আমলাপাড়ায় ‘ওপেন-সিক্রেট’। এর মধ্যে ডিসি নিয়োগে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসন ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠে খোদ জনপ্রশাসন সচিবের বিরুদ্ধে। যদিও এই বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়নি বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।