এরশাদ রানা, ষ্টাফ রিপোর্টার
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক ভবন,শয্যা বৃদ্ধি ও কর্মচারীর চরম ঘাটতি বহমান। গত (রবিবার)সকাল-১০ঘটিকার সময় সরকারি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সর্বশেষ প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত এই প্রতিবেদকের হাতে যেসব সমস্যার কথা এসেছে তাহা নিঃসন্দেহে রোগীদের ভোগান্তির অন্যতম কারণ।
৫০শয্যা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির যে আবাসিক ভবন রয়েছে তাহা সম্পূর্ণ রুপে ব্যবহারের অনুপযোগী,পূর্বে বসবাস করা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির কর্মকর্তা ও চিকিৎসকগণ একপর্যায়ে অনিহা প্রকাশ করে অন্যত্রে ভাড়াটে বাসায় থাকেন।অপরদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে শয্যা না থাকায় রোগীদের চরম ভোগান্তিরও পূর্বাভাস মিলে।
উপজেলার ৪২৯টি গ্রামজুড়ে জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫লাখ, বিশাল এই জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকারি সেবার খাত থেকে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি একমাত্র ভরসার স্হল। কিন্তু কোথায় সেই ভরসার স্হল, যুগের পর যুগ চলছে রোগীদের ভোগান্তি। হসপিটালটিতে চলমান শয্যা সংখ্যা মাত্র ৫০টি কিন্তু ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা শতাধিকেরও বেশি।
যার ফলে বেশিরভাগ সময়ই ভর্তিকৃত রোগীদের দখলে থাকে টয়লেটের দরজা, বারান্দার করিডোর, সিঁড়ি ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষের দরজাটিও। রোগীদের এমন দূর্দশাও ভোগান্তি এড়ানোর লক্ষ্যে ৫০শয্যা থেকে ১০০শয্যায় উন্নতিকরণের জন্য তৎকালীন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া টিপু সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে একাধিক বার আবেদনও প্রেরণ করেছেন।
আবাসিক ভবনও শয্যা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ ছাড়াও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বহুল সমস্যায় জর্জরিত,এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী, যেখানে ৪জন কর্মচারী থাকার কথা ছিল সেখানে মাত্র ১জন কর্মচারীকে দিয়ে পুরো স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সটিতে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির অটোমেশিন সিস্টেম ও ৪০টি কম্পিউটারও ল্যাপটপ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এসব মেশিনারীজ জিনিসপত্রগুলি হসপিটালের নিচতলা থেকে দ্বিতীয় তলায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
তবে আউটসোর্সিং আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হিমসিম খেতে হচ্ছে অটোমেশিনারও গাড়ি চালকের বেতন দিতে। বেরিয়ে আসলো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির নানান দূর্ভোগের কথা, এবার নতুন করে জানা গেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির বাউন্ডারি গেইট, ওয়াল ও আবাসিক ভবন চত্বরে দালাল চক্র ও মাদকাসক্তদের আড্ডা।
অশুভ এই চক্রটি দিনের বেলায় রোগীদের সাথে করে পায়তারা ও সন্ধ্যার পর-পর নিজেরাই লেলিয়ে পড়ে মাদকের কবলে আর নেশার জগতে। মাদকাসক্তদের এমন উৎপাত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে আসা রোগীদের জন্য পুরোই ভয়ঙ্কর, তাদের অপকর্মও অপ্রীতিকর দৃশ্যকে নিপীড়ন করতে স্হানীয় উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতাও চেয়েছেন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
সাম্প্রতিক সময়ে লেগে থাকা ও সদ্য বয়ে বয়ে যাওয়া এসব সমস্যার আশানুরূপ সমাধান কেমন হতে পারে জানতে চাইলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.রশিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চৌদ্দগ্রামের প্রাণকেন্দ্রে অবস্হিত।
এটির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে রোগীদের এতো উপচে পরা ভীড়।প্রথমত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির আবাসিক ভবনের অবস্থা একেবারেই বেহাল দশা, এটি নতুন করে নির্মাণ করা অতীব প্রয়োজন।
তার পাশাপাশি ৫০শয্যার বেড থেকে ১০০শয্যায় উন্নতিকরণ করা হলে রোগীরা আউট ডোর থেকে সেবা নিতে হবে না, এটি রোগীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ, তাই এটিও নিরসন করা প্রয়োজন।
আর আমার এখানে যে পরিমাণে কর্মচারী প্রাপ্তির চাহিদা ছিল তাহা এখনো পাওয়া যায়নি, ১জন মাত্র কর্মচারীকে দিয়ে পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি পরিষ্কার করার বিষয়টি অমানবিক কাজ, তাই সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এই নিয়োগটি দেয়া হলে উপকৃত হবো।
পরে এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরোও বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির অনুকূল থেকে কোনো রকম আয় নেই কিন্তু ব্যয়ের পরিধি অনেক বেশি। আমার পূর্বে নিয়োজিত থাকা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া টিপু যখন ছিলেন তিনি তার মেধার ফলস্যূতিতে কাজ করে গিয়েছেন।
আমি সেদিকে না তাকিয়ে চলমান সকল সমস্যাগুলিকে উদঘাটন করেছি। যার ফলে এসব সমস্যাকে হয়তো অনেকের কাছে নতুনত্ব মনে হবে। আসলে মোটেও নতুনত্ব সমস্যা নয়, এসব ক্রান্তিলগ্ন থেকে সৃষ্টি হওয়া সমস্যা।