সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে চলে যান অনেক জণপ্রতিনিধি। পরবর্তীতে অন্তবর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অপসারণ করা হয় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার বিভিন্ন জণপ্রতিনিধিদের।
রাজনীতির কারণে আত্মগোপনে চলে যান পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর,ইউনিয়ন পরিষদের অনেক চেয়ারম্যান ও সদস্য। আবার কেউ বিভিন্ন মামলায় এখন কারাগারে।
জণপ্রতিনিধিবিহীন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ১টি পৌরসভার কার্যক্রম চলছে ধীরগতিতে। যথাসময়ে মিলছে না নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ ও জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সনদ।এ কারণে সন্তানদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে বিপাকে পড়েছেন অনেক অভিভাবকরা।
এসব ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ থাকে প্রায় একমাস যাবৎ। জনগণের ভোগান্তি ও জরুরী প্রয়োজনে অন্তর্বতী সরকার বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদেরকে এসব দায়িত্ব বন্টন করে দেন। কার্যক্রম চালুর অনেক দিন পর প্রতিটি ইউনিয়নে একজন মহিলা মেম্বারকে শুধুমাত্র যাচাই বাচাই করে সুপারিশ করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অনলাইনে আবেদন ও উপজেলা ইউএনও’র দপ্তর থেকে অনলাইনে গ্রহণ করার পর ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর প্রিন্ট করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দপ্তরে আবার নিয়ে যাবেন উনার স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য। তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দপ্তরে থাকলে স্বাক্ষর করেন অথবা রেখে যেতে বলেন, পরে দেখবেন বলেন। পরেরদিন আবার উপজেলা পরিষদে গিয়ে কম্পিউটার অপারেটর স্বাক্ষর করা কাগজগুলো নিয়ে যান।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকেই মাঠে থাকেন প্রকল্প পরিদর্শনে তদন্ত ও পরামর্শ দিতে। আবার অনেকেই যেতে হয় জেলা কর্মকর্তার দপ্তরে মিটিং ও নানান কাজে, কেউ থাকেন ছুটিতে। ফলে জরুরী প্রয়োজনে ইউনিয়ন ও পৌরসভার কাগজপত্রগুলো স্বাক্ষর করতে বিলম্বিত হয়।
সরকার নতুন ভোটার হালনাগাদ করবেন ঘোষণা দেয়ার পর জন্মনিবন্ধন করতে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় মানুষের ভীড় লেগেই থাকে। নির্ধারিত সময়ে নতুন ভোটার প্রত্যাশীগণ তাদের জন্মনিবন্ধন যথা সময়ে পাবেন কিনা সন্ধিহান। এসব কাগজপত্র পেতে কমপক্ষে এক থেকে দেড় মাস সময় লেগে যায়।