বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে এক ব্যবসায়ীর বাড়ী থেকে ৩০ লাখ টাকা নগদ ও ৬ ভরি সোনা চুরির ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) আনুমানিক রাত আড়াইটার সময় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের তেলপাম্প ফকিরপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী দবিরুল ইসলামের বাড়ীতে এ চুরির ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ী দবিরুল ইসলাম ওই গ্রামের দিদার আলীর ছেলে।
পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল সোমবার রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের লোকজন ঘুমিয়ে পড়ে। রাতে জানালার ছিটকিনি দিয়ে দরজার খুলে ঘরে প্রবেশ করে ড্রয়ার থেকে ব্যবসায়ের ও আলু বিক্রির প্রায় ৩০ লাখ টাকা ও ৬ ভরি সোনা চুরি করে নিয়ে যায় চোর। মঙ্গলবার ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে চুরির ঘটনাটি টের পায় পরিবারের লোকজন।
ব্যবসায়ী দবিরুল ইসলাম বলেন, গতকাল সোমবার দুপুরের খাওয়ার পর থেকে পরিবারের লোকজন ও কাজের লোকজনের হালকা ঘুম আসা শুরু করে। পরে ব্যবসায়ের কাজে বিকালে গেলে সেখানেও ঘুম আসে। তাই ব্যবসায়ের টাকা ও আলু বিক্রির টাকা ব্যাংকে জমা না করে বাসায় রাখি রাতে তাড়াতাড়ি আসে ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরবেলা উঠে দেখি ড্রয়ার থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা, মা ও বউয়ের ৬ ভরি সোনা চুরি করে নিয়ে গেছে। আমার মনে হচ্ছে দুপুরের খাওয়ার সাথে আগেই হয়ত ঘুমের ঔষুধ মিশিয়ে খাইয়েছে।
ব্যবসায়ীর বাবা দিদার আলী বলেন, যা ঘটার তা তো ঘটেই গেছে। এখন পুলিশের কাছে অনুরোধ আমাদের মালামাল যাতে উদ্ধার করা হয়। নাহলে আমার ছেলে নিঃস্ব হয়ে যাবে।
ব্যবসায়ীর ছোটভাই সাদ্দাম বলেন, রাতে ভাইয়াকে ব্যবসায়ের টাকা দিতে ও হিসাব দিতে আসছিলাম। আমার কাছে প্রায় ৩ লাখ টাকা ছিল। ভাইয়া ক্লান্ত ছিল বলল সকালে হিসাব নিব। সকালে দেখি আমাদের সব চুরি হয়ে গেছে। আমার ভাই গত কয়েকদিনের ব্যবসায়ের টাকা ছিল প্রায় ৩০ লাখ টাকা। সকাল হলেই টাকাটা ব্যাংকে জমা দিত।
ব্যবসায়ীর দুলাভাই জিল্লুর রহমান বলেন, সকালে মুঠোফোনের মাধ্যমে জানতে পারি শশুরবাড়ীতে চুরি হয়েছে। স্ত্রীকে নিয়ে এসে দেখি তাদের ব্যবসায়ের যত পুঁজি ছিল সব নিয়ে গেছে চোরেরা। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ থাকবে যাতে দ্রুত মালামাল উদ্ধার করা করে দোষীদের আইনের আওতায় শাস্তি দেওয়া হয়।
বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ঘটনার তদন্ত চলছে।