গাঁয়ের সীমানা পেড়িয়ে আরশী নদী। অবশ্য নামেই নদী। বর্ষা শেষে স্রোতের ভাটায় তার অস্তিত্ব তলানিতে এসে নেমে পরে। পৌষে এসে হাঁটু পানি। ডানকিনে মাছ ধরার খায়েস মেটাতে কেউ কেউ বাঁধ দিয়ে রেখেছে। সেই বাঁধ ব্যবহার করে হাটুরে অথবা স্কুলমুখি ছেলেমেয়েরা পারাপার হয়।
রূপালী বুকের মধ্যে বই খাতা গুলো চেপে ধরে ত্রস্ত পায়ে একটা বাঁধ ভেঙে এগিয়ে যাচ্ছিলো।
বিধি বাম।
কিছুটা এগিয়েই একটা পা নরোম আলের গভীরে যেতে লাগলো। সেই পায়ে ভর করে আরেক পা এগুতে গিয়ে দুটো পা-ই যখন আটকে গেলো তখোন আঃ করে চিৎকার করে উঠা ছাড়া আর কিছু করার ছিলো না। আগু পিছু সবাই হতভম্ব হয়ে পরে। নীরব পেছন ফিরে এসে তার হাত চেপে ধরে এক টানে তোলে নিয়ে গিয়ে ধপাস করে বসে পরে।
ভেজা মাটি পিচ্ছিল হয়। রূপালী টালমাটাল হয়ে নীরবের বুকে আছড়ে পরে। এত দ্রুত এ অঘটন ঘটলো যে ওরা দু’জনেই লজ্জায় লাল হয়ে গেলো। নীলিমা হিহিহি করে হেসে ছিছিছি’র ঢেউ তোলে রূপালীকে টেনে তোলে নিয়ে বললো,
“উঠে আয়, সিনেমাকেও যে হার মানালি।”
রূপালী বলার কোনো ভাষা হয়তো খুঁজে পেলো না। নীরবের দিকে চেয়েই আরক্তিম চেহারায় ফিক করে একটা হাসি ঝলসে গেলো। যে যা-ই বলুক বড়ো বাঁচা বেঁচে গেছে সে। যদি দেবে যেতো তাহলে কী হতো !বুকের কাছের বইগুলো ইতস্তত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। নীরবের গায়ে পরে গিয়ে তাকে কোনো ব্যথা দিলো কি না ভেবেই বলে ওঠলো,
: সরি, নীরব। লেগেছে?
: সরি কেনো ? না লাগেনি। আর একটু হলেই তো দেবে যেতে। তখোন তো ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজন হতো।
নীরবের কথা শোনে সবাই হো হো করে হেসে ওঠে।
“তোমার লেগেছে? যেভাবে টেনেছিলাম, হুঁশ পাইনি।”
: থাক ওসব, চলো স্কুলের দেরি হচ্ছে।
: তাই চলো।
নীলিমার হাত চেপে ধরে রূপালী বললো
: চলো, এগিয়ে যাই।
কয়েক কদম এগিয়ে গিয়ে পেছন ফিরে নীরবের দিকে তাকাতেই নীরবের অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে। রূপালীর উৎপলাক্ষী দু’টো মোহনীয় কামনায় জ্বলজ্বল করে জ্বলছে। বুকের কোথায় যেনো চিন করে একটা ব্যথা অনুভুত হলো। কিছুই বুঝতে পারছে না সে।
নীরবের বুকের কোণে আছড়ে পরার পরে কেমন যেনো একটা শিহরণ জেগেছিলো। তার বুকের ভেতর কেমন যেনো একটা ডিবডিব করে শব্দ হচ্ছিলো। অনুভূতি ভীষণ নাড়া দেয়। নীরব নীরবে রূপালীর চোখের ভাষা পড়ে নেয়। হৃদয়ে কোথায় যেনো একটা ঝড় বয়ে যায়। কিছু বলার নেই। নিরেট আকাশে যদি কিছুটা মেঘের ঘনঘটা থাকতো তবে হয়তো আবেগের দু’ফোটা জলের আশা করা যেতো। তা-ও নেই।
সারাটা দিন দু’জনের কারোই ভালো গেলো না। জানালা ভেদ করে রাতের আকাশের দু’টো তারা নীরবের চোখের সামনে এসে উঁকি দিলো। কুয়াশার কারণে ভালো বোঝা গেলো না। কিন্তু ওই দু’টো তারাকে রূপালীর চোখের তারার মতোই জ্বলজ্বলে মনে হলো। ঘর ছেড়ে বাইরে এসে দাঁড়ায়।
এখন অনেক তারা। অনেক তারার মাঝে হারিয়ে যায় সেই দু’টো তারা। খুঁজে পেতে মুশকিল। মন–ভাঙ্গা মনের খেই হারিয়ে ফেলে ঘরে ফিরে আসে সে। বই- খাতা গুছিয়ে নিয়ে শুয়ে পরে। এপাশ ওপাশ করে কখন ঘুমিয়ে পরে সে নিজেও জানে না।
দু’দিন পরে ভোর বেলায় রূপালী নীরবের বাড়ির আঙিনায় এসে পায়চারি করছিলো।
অপেক্ষা করছিলো কখন নীরব বাইরে বেরিয়ে আসে। তাকে বের হতে না দেখে নীরবের ঘরের দুয়ারে এসে কড়া নাড়ে।
: নীরব,,,
: কে ? ওহ রূপালী যে !
: কেনো অবাক হলে ? আমি কি আসতে
পারি না?
: কেনো নয়, অবশ্যই পারো। এসো ভেতরে এসো।
রূপালী ত্রস্ত পায়ে নীরবের পড়ার ঘরে ঢুকে পরে। একটা চেয়ার দেখিয়ে তাকে বসতে বলে নীরব ।
“বলো, কী করতে পারি তোমার জন্যে।”
: দু’দিন স্কুলে যাওনি, কেনো?
নীরবের মনে ঘ্যাচাং করে ওঠে। তাহলে তার জন্যে রূপালী ভাবতে শুরু করেছে ! মেঘ না চাইতেই জল !
: না, তেমন কিছুই নয়।
: শরীর খারাপ?
: না।
: মন খারাপ?
আর কতোবার না করবে ! এবার চেঞ্জ করা দরকার।
: হ্যা, মন খারাপ ছিলো। কিন্তু,,
: কিন্তু?
: হ্যা, এখন ভালো হয়ে গেছে !
: চমৎকার ! এখন ভালো হয়ে গেলো ৷
কেনো?
: এই যে তুমি এলে এবং আমার খোঁজ খবর নিলে। তাই আমার মন ভালো হয়ে গেলো।
রূপালী তার দোপাটি রূপালী দন্ত ফিক করে বের করে হেসে ওঠলো। ঝিনুক যেনো হা করে তার মুখ খোলে মুক্তো প্রদর্শন করে আবার ঢেকে ফেললো। হাসির সাথে ফ্রিতে মুক্তোর প্রদর্শনী যেনো নীরবের মনের কুহরে আরেক ঘা মেরে গেলো।
: খোঁজ নিলে ভালো লাগে ?
: হ্যা।
: রাগ করবে নাতো ? আমি যদি খোঁজ
খবর নেই ?
নীরব নীরব হয়ে যায়। ভাষা খুঁজে পায় না। রূপালী অপলক চেয়ে থাকে নীরবের চোখে।
ঠিক কতোক্ষণ দু’জন দু’জনের দিকে চেয়েছিলো তা’ আজ আর মনে নেই।
নিয়ম করে প্রতিদিন দু’জন দু’জনের তত্ত্ব তালাশ করে এগিয়ে চলছে কৈশোরের জীবন তরি । কিশোর -কিশোরী জীবনের কিশলয় প্রস্ফুটিত হয়ে শোভা বর্ধন করে বেড়াচ্ছে দু’জন।
অনাগত ভবিষ্যতের তথ্য কারো জানা নেই। তাদেরও নেই। শিকারীর ফাঁদের চেয়ে জীবনের ফাঁদ অনেক জটিল ও কঠিন। শিকারীর ফাঁদ থেকে মুক্তি পেলেও বা পেতে পারা যেতে পারে। কিন্তু জীবনের ফাঁদ একবার যাকে আঁকড়ে ধরেছে তা হয়তো বা অক্টোপাসের মতোই প্রবল এবং ভয়ঙ্কর।
বাড়ন্ত বয়সের বাড়ন্ত শরীর একটা আপদ। আপদ বিপদের চেয়ে খারাপ। বিপদ বলে কয়ে আসে না কিন্তু আপদ সঙ্গ ছাড়েনা। বরং ছায়ার মতো লেগে থাকে। যৌবনের পত্র-পল্লব উঁকি ঝুঁকি মেরে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পাড়া–মহল্লা ছাপিয়ে আশ-পাশের কয়েক গ্রামে ছড়িয়ে পরে। দোষ রূপালীর নয়, দোষ তার রূপের। এই রূপ তার পদে পদে আপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সে নিজেও বুঝতে পারেনি। যখন বুঝতে পারলো তখন তার নিজের উপর ঘেন্না ধরে গেলো।
পৌষের শেষ। কুয়াশার ঘনঘটা আকাশ জুড়ে। তার সাথে পিত্তি কাঁপানো থত্থুরে শীতল হাওয়া। জানালার পাশে চাদর মুড়ি দিয়ে বসে নীরব আকাশ দেখছে আর মায়ের হাতে বানানো মুড়ির মোয়া খাচ্ছে । আজ স্কুল ছুটি। শীতকালীন ছুটি। একটা ছোটো আলোয়ান গায়ে জড়িয়ে মাথায় ওড়নার একটা স্কচ প্যাচ এঁটে ভীত সন্ত্রস্ত হরিণীর মতো তার বাতায়ন পাশে এসে দাঁড়ায়। এই কনকনে ঠাণ্ডায় তাকে এভাবে দেখে নীরব অবাক হয়ে যায়। ছুটির কারণে গত চার পাঁচ দিন দেখা সাক্ষাৎ হয়নি।
: কেমন আছো? এসো, ভেতরে এসো।
রূপালীকে কিছু বলতে না দিয়েই দরজা খুলে মেলে ধরে সে। রূপালী ঘরে ঢুকে। কুয়াশার শুভ্র-সফেদ আবরণে আবৃত তার মুখমন্ডল। গায়ের আলোয়ানটাও বাদ যায়নি।
” বসো।”
রূপালী একটা চেয়ারে ধপ করে বসে পরে।
: তুমি কি কিছু শোনেছো? আমার ব্যাপারে ?
: নাতো, কী হয়েছে ? শরীর খারাপ ?
নীরবের চোখে এক সমুদ্র জলরাশির উচ্ছ্বল প্রলয়ের ছটা ফেলে বলে,
: আমার বিয়ের বন্দোবস্ত হচ্ছে। বলার সাথে সাথেই ঝর ঝর করে অশ্রু বিসর্জন করতে লাগলো।
নীরবের উপর যেনো বিনা মেঘে বজ্রপাত হলো। কী করবে সে? কীই বা করার আছে তার। ভালবাসে তাকে। তার জন্যে হয়তো অনেক কিছুই করতে পারে। কিন্তু কেমন করে ?
” জানি না।” অস্ফুট স্বরে বলে ওঠে সে।
: কী বললে ? জানো না? কী জানো না ?
: না। কিছু বলিনি।
এগিয়ে গিয়ে তার হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে প্রথমে তার ডান চোখ এবং পরে বাম চোখ মুছে দিতে দিতে বলে,
“কী করতে হবে বুঝতে পারছিনে। একেতো আমাদের বিয়ের বয়স হয়নি, তার উপর তোমার মা-বাবাকে বূঝাবে কে ?”
: বয়স হয়নি?
: না।
: তাহলে আমাকে বিয়ে দেবে কেনো আর বিয়ে করবেই বা কেনো?
: কারণ বুঝো না? কচি খোকা ! ধ্যাত্তরি, খুকি ! তোমার রূপ এবং সমাজ দু’টোই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
: তুমি মজা নিচ্ছো !
: না। মজা নিচ্ছি না। তুমি আমাকে ভালোবাসো?
: হ্যা। ভীষণ রকম।
: কেনো?
: জানি না। তোমাকে ছাড়া আর কাউকে আমি কল্পনাও করতে পারি না।
: আমিও তো তাই ভাবি। এটা প্রকৃতির নিয়ম। তুমি আমাকে যে আকর্ষণে ভালোবাসো আমিও ঠিক তেমনি তোমার উপর তেমন একটা আকর্ষণ অনুভব করি। যার ফলে আমরা একে অপরকে পেতে চাই।
: তুমি কি লেকচার দিচ্ছো।
: না। মা- বাবা বুঝে তার সন্তানের কখন কী প্রয়োজন।
: ঘোড়ার ডিম বুঝে। এটা বুঝে না যে সন্তান কাকে চায়, কাকে পেলে সুখে থাকবে !
বলেই নীরবকে জড়িয়ে ধরে তার বুকে মুখ লুকিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে থাকে।
: ওরে বাব্বা ! ওকি ! রূপালীর উষ্ণ পরশে নীরবের হৃদয়ে প্রেমের বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ার বয়ে চলে। হৃদয়ে হৃদয়ের মাখামাখি অবস্থা।
বাকরুদ্ধ দু’জন দু’জনকে জড়িয়ে ধরে অশ্রু বিসর্জন দিয়ে নিজেদের হালকা করে।
নীরব নীরবে রূপালীর ললাটে আলতো করে চুমো খেয়ে বলে,
“তোমার বয়স কতো ?”
: ষোলো বছর দুই মাস বাইশ দিন। কেনো?
: হ্যারে গণিতের মাস্টারনি। দিন সহ গুণে রেখেছো !
: বিয়ের কথা শোনে হিসেব করেছি।
: খুব বেশ করেছো। কেল্লা ফতে’
তার গালটা বাড়িয়ে দিয়ে বললো,
“এখানে একটা দাও।”
: কী দেবো ? ওহ দুষ্টু ! নাও, এই দিলেম।
কেল্লা ফতে’ না কি যেনো বললে?
: হ্যা। বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করতে বলো।
: মানে ! আমি গলায় দড়ি দেবো।
: আমার জন্যে ?
: কী যা তা বলছো, তোমাকে না পেলে।
: আমিও তো তাই বলি। শোনো, তোমার বিয়ের বিষয়ে ইয়েস অর নট কিছুই বলার দরকার নেই। তুমি শুধু আমার জন্যে অপেক্ষা করবে। নাও, বিবি সা’ব মুড়ি খাও।
আলো ঝলমলে রাত। মেহমানদের হৈ হুল্লোড়, পাড়া–পড়শির আনাগোনা, এ যেনো এক স্বপ্ন–পুরী। রূপালীসহ তার বান্ধবীদের সাজ সজ্জায় মনে হচ্ছে সুন্দরী অপ্সরাদের মিলন মেলা।
আতশ বাজির রকমারি শব্দে কেমন এক ভীতিকর উচ্ছ্বল পরিবেশ। সবার মনে আনন্দের দোলা যখন তুঙ্গে, শুধু গুমরে কেঁদে মরছিলো দু’টো প্রাণ।
কি জানি কী হয় ! পারবে তো নীরব, নীরবে তাদের প্রেমকে বাঁচাতে। গতো দু’বছরের নীরব পথ চলায় কখনো খুত খুঁজে পায়নি সে। রাত গভীর হয়। কখন ঘুমিয়ে পরে সে।
ভোর হতেই আবার প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসে বাড়িতে।
গ্রাম পুলিশ হাতে একটা খাম ও স্থানীয় ইউনিয়ন পর্ষদের সদস্যকে নিয়ে হাজির।
: মজিদ সাহেব বাড়ি আছেন? গ্রাম পুলিশের ডাক।
: মুরুব্বি, কোথায় গেলেন? একবার এদিকটায় আসুন তো। ইউপি সদস্যও তার স্বরে রূপালীর বাবাকে ডেকে পাঠালেন।
তড়িঘড়ি মজিদ মিয়া আঙিনায় এসে ওদেরকে দেখে হতভম্ভ হয়ে যায়।
: কী ব্যাপার মেম্বার ? গ্রাম পুলিশ নিয়ে আমার এখানে? কোনো সমস্যা?
: হ্যা চাচা, বিরাট সমস্যা।
ইউএনও স্যার থানায় নোটিশ পাঠিয়েছেন। ওসি স্যার চেয়ারম্যানকে।
চেয়ারম্যান সা’ব তাকে দিয়ে আমার মাধ্যমে আপনার মেয়ের বিয়ে বন্ধ করতে পাঠিয়েছেন।
চমৎকার করেছেন। আমার মেয়ের বিয়ে দেবার দায়িত্ব কি আমার নেই?
: অবশ্যই আপনার। তবে তার বয়স আঠারো বছর পেরোলেই পারবেন। তার আগে নয়।
: আমার মেয়ের বয়স আঠারো। কাগজ আছে।
: আমাদের কাছেও আছে। বাড়াবাড়ি করে লাভ নেই, চাচা।
: তোমাদের কাছে আছে ? মেয়ে আমার আর তার জন্ম সনদ তোমার কাছে !! মগের মুল্লুক পেয়েছো ?
: হ্যা। আপনি যা বোঝেন। স্কুলের প্রত্যয়ন পত্র আমাদের কাছে। আপনার মেয়ের ভুয়া জন্ম সনদের কারণে জেলের ঘানি টানবেন। কোনটা চাইবেন?
ধপাস করে একটা চেয়ারে বসে পরে মজিদ মিয়া। কী করবে সে ? বাড়ি ভর্তি মেহমান। একশ’ জন বর যাত্রী। এত খাবার–দাবার !
: কী করবো আমি? বর পক্ষকে কী বলবো?
: ওরা বুদ্ধিমান হলে বিনা বাক্য ব্যয়ে চলে যাবে।
: মেয়েটার কী হবে? বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়া মেয়ে। তারপরেও মেয়েটার পেছনে কিছু দুষ্ট পোলাপানের কু-দৃষ্টি পরেছে।
: কার দৃষ্টি পরেছে কাকা ? হাত–পা ভেঙ্গে দেবো না !
নীরবের নীরবতা হারিয়ে গেছে দূর অজানায়। রূপালীর চোখের পানির মূল্য সে দিতে পারছে ভেবে ভেতরে ভেতরে সে খুশিতে আত্মহারা।
মজিদ মিয়ার সম্বিত ফেরে। তাকিয়ে দেখে নীরব দাঁড়িয়ে আছে।
: নীরব, তুমি বলছো এসব?
: জ্বী কাকা, আমি বলছি।
দেখতে দেখতে উঠোন ভরে গেলো স্কুলের ছেলে মেয়েদের পদচারণায়। নীলিমা রূপালীকে ঘরে থেকে টেনে বের করে এনে উঠোনে দাঁড় করায়। বিয়ের সাজে কী অপরূপা লাগছে তাকে। উঠোন ভর্তি মানুষের দৃষ্টি এখন তার দিকে। চোখ ফেরানো ভার। এতো রূপ এতোদিন কোথায় লুকিয়ে রেখেছিলো সে! নীলিমা উঁচু স্বরে বলে ওঠে,
“আমরাও বলছি। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। বখাটেদের ভয়ে বাল্য বিয়ে চলবে না।
সবাই সমস্বরে চিৎকার দিয়ে বলে ওঠলো, “চলবে না, চলবে না।”
একটা প্রতিবাদী শ্লোগানে রূপ নিলো।
মেম্বার আবার জানতে চাইলেন,
: কী করবো চাচা, রিপোর্ট দিয়ে দেই যে, আপনি আইন মেনে নিয়েছেন ?
রাজ্যের বোঝা কাঁদে নিয়ে অবনত মস্তকে তা-ই সায় দিলেন।
নীরব মনে সাহস সঞ্চয় করে রূপালীর কাছে এগিয়ে গিয়ে তার মাথার টিকলিটাতে আলতো ছোঁয়া দিয়ে বললো,
“আজ আঠারোর কম বলে কাকার খাবার গুলো নষ্ট হলো কিন্তু আঠারোর বেশি হলে
বেঁচে যেতো।”
এ কথার মানে কে কী বুঝলো বুঝা গেলো না।
দু’দিন পরে স্কুলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে রূপালীর প্রথম প্রশ্ন,
: আঠারোর সমস্যা কী ? আগে বলো।
নীরব স্মিত হাসি হেসে বলে,
: বুঝোনি?
: না।
: আঠারোর পরে তুমি স্বাধীন। তোমাকে কেউ জোর করে বিয়ে দিতে পারবে না। কিন্তু তাই বলে আবার আমাকে আইন বুঝিও না, হ্যা,,,?
: ওহ ! তা -ই বলো? এবার তবে বুঝবে মজা !!
: মানে?
: সময় হলে আমি তোমাকে বুঝাবো। প্রতিদান দিতে হবে না !
দু’জনেই হি হি করে হেসে ওঠলো।