খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, কুমিল্লা
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রোষানলে পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শুরু হয় দেশব্যাপী সংস্কার আন্দোলন জুলাই আগস্ট মাসে আন্দোলন কারীদের বাংলাদেশ পুলিশের কিছু উচ্চ বিলাসী ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের উপর বেপরোয়া হয়ে উঠে পুলিশ।
ওই কর্মকর্তাদের নির্দেশে মাঠ পর্যায়ের পুলিশরা আন্দোলন কারীদের উপর গুলি চালিয়ে নিরীহ শত শত ছাত্রদের হত্যা ও অনেকেই হয়েছে পঙ্গুত্ব।
ওই সময় অনেক থানা ফাঁড়িতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র, মাদক মামলার ডকেট, আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বেশ কিছুদিন পুলিশের কার্যক্রম সেবা মূলক কাজ বন্ধ থাকে।
গণহারে পুলিশের বিরুদ্ধে শুরু হয় মামলা। পালাতে থাকে পুলিশ সদস্যরা। গ্রেফতার করা হয় এস আই, ওসি, পুলিশ সুপার, ডি আই জি, পুলিশ কমিশনার সহ মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের।
তার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় কর্মরত অবস্থায় (ওসি তদন্ত) খাদেমুল বাহার পালিয়ে যায়। বেলা সাড়ে তিনটায় থানা সংলগ্ন তার বাসায় সেনাবাহিনী অভিযানে নগদ ৫১ লাখ টাকা বেশ কিছু অবৈধ জিনিস উদ্ধার করে নিয়ে যায়। খাদেমুল বাহারকে পাওয়া যায় নি।
সে আত্মগোপনে ও পালিয়ে যাওয়ার সার্বিক সহযোগিতা করেছেন পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পুলিশ সুপারের ষ্টোনো প্রদীপ । সূত্র জানায়, খাদেমুল বাহার দীর্ঘ ১ যুগের ও বেশি সময় কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন থানায় কর্মরত ছিলেন। অপরদিকে জেলা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মো: নজরুল ইসলাম ও দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে খাদেমুল বাহার কোথায় আছে, জেলা পুলিশের কাছে এমন তথ্য জানা নেই।
এ ব্যাপারে কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ডি.আই.ওয়ান. এজাজুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত এই দুই পুলিশ সদস্য কর্মস্থলে ফিরে আসেনি। ডিপার্টমেন্ট তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিচ্ছে। পুলিশ সুপার মো: নাজির আহমদ খান জানান, এ ব্যাপারে আমার জানা নেই জেনে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিবো। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও কুমিল্লার সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ মনিরুল হক চৌধুরী জানান, খাদেমুল বাহার সদর দক্ষিণ থানা সহ কুমিল্লার বিভিন্ন থানায় কর্মরত অবস্থায় বিএনপির অনেক নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছেন। তাকে আটক করে তার বিরুদ্ধে আইন গত প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করার জোর দাবি জানাই।