নিজস্ব প্রতিবেদক
লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে আপন ভাইকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা এবং ভাতিজির শ্রীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন ভুক্তভূগীর স্ত্রী দুলালী বেগম। যাহার মামলা নং-০৮-৪/১/২০২৫।
এদিকে ভুক্তভূগী আবুল কালাম হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আবুল কালামের শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তিনি বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানার দক্ষিণ ঘণেশ্যাম মিয়াপাড়ায় আবুল কালামের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ১৮ শতক জমি বাদি ও তার স্বামী ভোগ দখল করিয়া আসিতেছিল। ওই জমি ভোগ দখল করা অবস্থায় মো. আব্দুল হামিদ, মো. আব্দুস সাত্তার। উভয় পিতা- মৃত ফয়ছার আলী, মোছা. রোকেয়া বেগম, স্বামী মো. আব্দুল হামিদ, মোছা. রাশেদা বেগম, স্বামী- মো. আব্দুস সাত্তার, সর্ব সাং- দক্ষিণ ঘণেশ্যাম মিয়াপাড়া। প্রায় এক বছর পূর্ব হইতে ভুক্তভোগীর দখলীয় ১৮ শতক জমির মালিকানা দাবীসহ জবর দখল করার পায়তারা করেন আসামীরা। তাদের সঙ্গে ওই জমি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিরোধের কারণে আবুল কালাম বিষয়টি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের মৌখিকভাবে অভিযোগ জানান।
পরে স্থানীয় গন্যমান্যরা আসামীগনকে ওই জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আলোচনার মাধ্যমে আপোষ মীমাংসা করার জন্য বলেন। আসামীগন স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কথামত ওই জমির বিষয়ে আলোচনা করিবে বলিয়া কালক্ষেপন করিতে ছিলেন। এরই এক পর্যায়ে গতবছর ২৪ ডিসেম্বর বেলা অনুমান ১১টায় বাদির বসত বাড়ী সংলগ্ন পশ্চিম পার্শ্বে আবুল কালামের দখলীয় ১৮ শতক জমিতে তামাকের চারা রোপন করেন।
এটা দেখে আসামীগন একজোটে লাঠি, লোহার রড, ধারালো দা, ছোড়া হাতে নিয়ে সকল আসামীগন জমিতে প্রবেশ করে এবং চারা রোপন করার জন্য বাধা দেন। তখন আবুল কালাম আসামীগনের নিষেধ উপেক্ষা করে ওই জমিতে চারা রোপন চলমান রাখেন। তখন কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আসামীগন আবুল কালামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিতে থাকেন। তখন ভুক্তভোগী প্রতিবাদ করিলে আব্দুস সাত্তারের হুকুমে আব্দুল হামিদ তার হাতে থাকা ধারালো ছোড়া দিয়ে আবুল কালামকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মারে। ওই কোপ তার ডান হাত দিয়া ঠেকাইলে ভুক্তভোগীর ডান হাতের কনিষ্ট আঙ্গুলের মাঝামাঝি লেগে কেটে যায়। তখন আবুল কালাম আজাদ মাটিতে লুটিয়ে পরেন।
এই সুযোগে আব্দুস সাত্তার তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়া পেটাতে থাকেন। এতে তার আঙ্গুলের হাড় ভেঙ্গে গুরুতর জখম হন। এরপর রোকেয়া বেগম লোহার রড দিয়ে ভুক্তভোগীর বাম হাতের কনুইয়ে ওপর পিটিয়ে থেতলা করে দেন। রাশেদা বেগম তার হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে আবুল কালামের মাথার আঘাত করেন।
এরপরে আব্দুল হামিদ আবুল কালামকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তার দুই হাত দিয়া গলা চেপে ধরে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা চেষ্টা করেন। তখন বাদিরনীর মেয়ে মোর্শেদা বেগম (৩৫) এই ঘটনা দেখে এগিয়ে এলে আসামীগন তার পড়নের কাপড় টানা হিচরে ছিড়িয়া বিবস্ত্র করে এবং শ্লীলতাহানি ঘটায়। এ বিষয় মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই সানারুল হক বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে । তাদের বিরোদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চলমান।