এরশাদ রানা, স্টাফ রিপোর্টার (চৌদ্দগ্রাম)
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জুড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৭৫টি।এসব প্রতিষ্ঠানগুলি রাষ্ট্রায়ত্ব অর্থে বহুতল ভবন পেলেও বৎসর শেষে শিক্ষার্থী সংকটে ভূগতে হচ্ছে। পুরো বিদ্যালয় জুড়ে যে পরিমাণ আসন সংখ্যা রয়েছে তার এক অংশে পাঠদানের শিক্ষার্থীও মিলছে না। উপজেলার আলকরা থেকে কাশিনগর ইউনিয়ন পর্যন্ত বিশাল এই প্রান্তিক নগরে পর্যাপ্ত পরিমাণ শিক্ষার্থী রয়েছে কিন্তু গত এক দশকের মধ্যে এসব এলাকায় গড়ে উঠেছে ব্যাঙের ছাতার মতো অগণিত নুরানী মাদ্রাসা ও এতিমখানা। পাড়া-মহল্লায় ঘরে ঘরে এসব প্রতিষ্ঠানের এখন শুধু কোলাহল-ই চোখে পড়ে। তবে এসব গড়ার পূর্বে আরবি শিক্ষার জন্য গ্রাম্য মক্তবও পাঠাগারের কোনো বিকল্প ছিল না।

তখন নিয়মিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি শিক্ষার্থী সংকটে এতোটা পড়েনি। কারা এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে, সরকার কর্তৃক অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে স্বাধীন ভোরের প্রতিবেদককে একাধিক নুরানি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলেন-আরবী শিক্ষার জন্য কোনো রকম অনুমোদন লাগে না, এসব প্রতিষ্ঠান একান্তই আমাদের ইচ্ছেই গড়ে উঠেছে।উল্লেখ্য এসব মাদ্রাসার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমেই কমতে শুরু হয়েছে। এই প্রাসঙ্গে তাদের প্রশ্ন করা হলে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক নুরানি মাদ্রাসার শিক্ষকরা বলেন-এখাতে আমাদের কিছুই করণীয় নেই,এটি যথাযথ কর্তৃপক্ষও সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। উক্ত বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাকিনা বেগম একাধিক বার শিক্ষার্থী সংকটের বিষয়ে সকলকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য অনুরোধ করেন এবং ব্যক্তিগত ভাবে তিনি নিজেও একরকম ক্ষোভও প্রকাশ করেন।