স্টাফ রিপোর্টার
রবরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার পতিত আওয়ামীলীগের সাবেক পরাজিত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ছাত্রলীগ-যুবলীগের পলাতক সৈনিক আমিনুল আমিনুল ইসলাম শিপন খানের বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ, দুর্নীতি লুটপাট ও অঘাত সম্পদের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা যায়, শিপন কোটি কোটি টাকা কৌশলে হাতিয়ে এখন সে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। দুর্নীতি আর কালো টাকার মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। আমিনুল ইসলাম শিপন বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার দক্ষিণ ভোলানাথপুর গ্রামের রশিদ খানের তৃতীয় পুত্র। বর্তমান আবাসন ঢাকার সেগুন বাগিচায়। তার পিতা রশিদ খান ছিলেন নিতান্তই গরিব। একজন দুর্নীতিবাজ, লুটপাটের নায়কের তথ্য এসেছে আমাদের দৈনিক স্বাধীন ভোর প্রতিনিধির হাতে। বিগত ১৬বছরে লুটপাট, দখলদারিত্ব করেছে শিপন। তা এখন এলাকার সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। আমিনুল ইসলাম শিপন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রদলে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হওয়ার পর এলাকার এক বড় ভাইয়ের হাত ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে। সে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং পরে বিতারিত যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন। অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনে তার নিজ শ্বশুর আব্বা হুমায়ুন কবির খলিফাকে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনে বিজয়ী করার পিছনে তার কালো টাকা। বেতাগী উপজেলা নির্বাচনে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে কালো টাকার বিনিময়ে তার শ্বশুরকে চেয়ারম্যান প্রার্থী করে চেয়াম্যান হিসেবে বিজয়ী করেন। এখানে আশ্চর্যের বিষয় শিপন তার এই শ্বশুরের নির্বাচনে ২ কোটি টাকা ফেরত পাওয়ার শর্তে সদর ইউনিয়ন পরিষদকে নিজের মতো করে বিক্রি করে ফেলেছে। তার নিজ শ্যালক মনি বেতাগী উপজেলায় মাদকের রমরমা বাণিজ্যে করে যুব সমাজকে ধ্বংস করে ফেলেছে। এই শ্যালক মাদকের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করার কারণে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে আটক হয়ে বহুবার জেলও খেটেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার এই তান্ডবলীলায় মানুষ মোটেই সন্তুষ্ট নয়। শিপনের এই হঠাৎ উত্থানের পেছনে তার নিজ এলাকার সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান ও দুদক কমিশনার নাসির আহমেদের আর্শিবাদ। নসির আহমেদ বিদায়ের সময় সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান বর্তমানে কারারুদ্ধ নজির আহমেদের হাতে তুলে দেন। এনবিআর চেয়ারম্যান কারারুদ্ধ, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা নজির আহমেদের সকল কালো টাকা শিপন আহমেদের মাধ্যমে সাদা করেছেন বলে জানা যায়। শিপন অল্প দিনের মধ্যেই তার বিশ্বস্থ হওয়ার কারণে সব কাজ তিনি শিপনকে দিয়েই করাতেন। পতিত সরকারের সব নেতাদের মাঝে এখন আতঙ্ক আর হতাশা বিরাজ করছে। সাবেক হাসিনা সরকার ৫ আগষ্ট ভারতে পালিয়েছে। সব নেতারা আত্মগোপনে চলে যায়। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ গুরুত্বপূর্ণ লীগের নেতা-কর্মীরা সবাই গা ঢাকা দিয়েছে। কেউ কেউ বিদেশে পালিয়ে গেছে। বর্তমানে রাজনীতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুর্নীতি এবং লুটপাটের মহোৎসবের কাহিনী। মানুষের মুখে মুখে, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে একদম সমস্ত সেক্টরে। এর মধ্যে দুর্নীতিবাজ, লুটপাটের নায়কদের বিগত ১৬বছরের দুর্নীতির আমলনামার হিসাব মানুষ জানতে পারছে। এরকম এক দুর্নীতিবাজ নেতা আমিনুল ইসলাম শিপন। একের পর এক বেড়িয়ে আসছে দুর্নীতির চালচিত্র। একজন নেতার একেকজন ইতিহাস মানুষ দেখে হতবাক। আমিনুল ইসলাম শিপনের কমলাপুর আইসিডিতে খান এন্টারপ্রাইজ নামে একটি সিএন্ডএফ এর ব্যবসা রয়েছে। এই সিএন্ডএফ ব্যবসার আড়ালে আইসিডিতে যত রকম দালালী, বাটপারি আছে সব শিপনের একার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা যায়। শিপনের ঢাকা এবং নিজ এলাকায় রয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ।অনুসন্ধানে জানা যায়, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে রয়েছে কিডসের দোকান, ঢাকার খুব সন্নিকটে রয়েছে ইটের ভাটা। সেগুন বাগিচায় ২টা আলিশান এবং ধানমণ্ডিতে ফ্ল্যাট আছে বলে জানা যায়। শিপনের রয়েছে ৩টি গাড়ী। যা তিনি নিজে এবং পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করে। তার এই কালো টাকার তথ্য যাচাইয়ের জন্য দৈনিক স্বাধীন ভোরের প্রতিনিধি তার মুঠো ফোনে ফোন করলে তিনি সব অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে তিনি বাংলা বায়ান্ন ২৪ নামের একটি পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি এই নামে কোন পত্রিকা নেই।