বায়েজিদ হোসেন, বগুড়া
গত ১৬ জুলাই ২০২৪ ইং তারিখ হতে সারা বাংলাদেশে কোটা বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। কোটা বিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন করে আবু রায়হান@রাহিম(২৯) (হাক্কানী টিস্যু কোম্পানীর সেলসম্যান) ইং ০৪/০৮/২৪ তারিখ সকাল অনুমান ১০.৩০ ঘটিকার সময় কোটা বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মিছিল করার জন্য দুপচাঁচিয়া পৌরসভাস্থ বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে আওয়ামীলীগ পার্টি অফিসের সামনে সকাল অনুমান ১১.০৫ ঘটিকার সময় পৌছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামীগন পরস্পর যোগসাজসে দুপচাঁচিয়া থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোঃ বেলাল হোসেন এর নেতৃত্বে নাশকতা সহ দাঙ্গাহাঙ্গামা, খুন, জখম করার জন্য দলবদ্ধ হয়ে হাসুয়া, লোহার রড, লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র সহ অতর্কিত ভাবে কোটা বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলের উপর হামলা করে। মোঃ বেলাল হোসেন আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভিকটিম আবু রায়হান@রহিম এর ডান পায়ে পরপর কয়েকটি গুলি করলে ভিকটিম রাস্তায় পড়ে যায়। তখন অন্যান্য আসামীগন ভিকটিমকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাথারীভাবে মারপিট করে এবং কোটা বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রী সহ অন্যান্য লোকজনদেরকে এলোপাথারীভাবে মারপিট করে ঘটনাস্থল হতে চলে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিম আবু রায়হান@রাহিমকে উদ্ধার করে প্রথমে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে রেফার্ড করেন। শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শেরে বাংলা নগর, ঢাকায় রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোটা বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ ভিকটিম আবু রায়হান@রাহিম(২৯) ইং ০৯/০৮/২৪ তারিখ সকাল ০৮.৩০ ঘটিকায় মৃত্যুবরণ করেন। এ প্রেক্ষিতে ভিকটিমের মা মোছাঃ রওশন আরা বেগম বাদী হয়ে দুপচাঁচিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।উক্ত ঘটনার পর পরই সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করতে মাঠে নামে বগুড়া র্যাবের গোয়েন্দা টিম। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জন্য তথ্য প্রযুক্তি সহায়তা নিয়ে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করা হয়। উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে অদ্য ইং ২৮ অক্টোবর ২০২৪ তারিখ ০৬.৩০ ঘটিকায় র্যাব সদর দপ্তর ইন্ট উইং এর সহযোগিতায় র্যাব-১২, সিপিএসসি, বগুড়ার নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর থানাধীন জামালগঞ্জ বাজারে অভিযান পরিচালনা করে উল্লেখিত মামলার ০১নং এজাহারনামীয় অন্যতম প্রধান আসামী বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সক্রিয় কর্মী এবং দুপচাঁচিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মোঃ বেলাল হোসেন (৪৮), পিতা-মৃত ছৈমুদ্দীন, সাং-পাইকপাড়া, থানা-দুপচাঁচিয়া, জেলা-বগুড়াকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় আসামীর নিকট হতে ০১টি মোবাইল ও ০১টি সীম জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামীকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অফিসার ইনচার্জ দুপচাঁচিয়া থানা এর নিকট হস্তান্তর করা হয়।