* প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দুই যুগ একই দপ্তরে কর্মরত
* পদায়নকৃত পরিচালকগণকেও চলতে হয় রশিদ মোল্লার কথায়
* সারাদেশব্যাপী এক বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে এই কর্মকর্তার
বিশেষ সংবাদদাতা
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভূমি ও রাজস্ব পরিদপ্তরে দীর্ঘ ২৫ বছর যাবত কর্মরত রয়েছেন মোঃ আব্দুর রশিদ মোল্লা। ১৯৯৪ সনে রেভিনিউ অফিসার পদে যোগদান করে রশিদ মোল্লা ২০০০ সালে সহকারী পরিচালক (ভূমি ও রাজস্ব) পদে পদোন্নতি পেয়ে ভূমি ও রাজস্ব পরিদপ্তরে যোগদান করে। সেই থেকে বিভিন্নভাবে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অদ্যাবধি একই দপ্তরে কর্মরত রয়েছেন।
এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং প্রতিষ্ঠানে সম্পাদিত নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে প্রধান উপদেষ্টা ও দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদন করেছেন একই প্রতিষ্ঠানের একজন উপ সহকারী।
আবেদনের সূত্রে জানা যায়
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘ ২ যুগের বেশি সময় একই দপ্তরে কর্মরত থাকা বাপাউবোর ইতিহাসে বিরল ঘটনা। কিন্তু এই বিরল কাজটি করে সে এই দপ্তরের মন্রীর পিএস ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিদ্বয়ের সহায়তায়। এই দপ্তরে কর্মরত যে কোনো কর্মকর্তা/কর্মচারী তার কথার বাইরে গেলেই তার ওপর খড়গ নেমে আসে।
এমনকি এই দপ্তরে বিভিন্ন সময়ে পদায়নকৃত পরিচালকগণকেও তার কথা মত চলতে হয়। তার কথার বাইরে যাওয়াতে ইতিপূর্বে অনেক পরিচালককেই অসম্মানজনকভাবে বিদায় নিতে হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এই সহকারী পরিচালকের সারাদেশব্যাপী রয়েছে এক বিশাল নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সে সারা দেশের বাপাউবোর মালিকানাধীন জমির ইজারা/লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং তা এখনো করে যাচ্ছে। তার এই অবৈধ কাজে কোনো পরিচালক বাঁধার সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার শুরু করে দেয়।
ভূমি সংক্রান্ত অভিজ্ঞতাকে পুজি করে এই কর্মকর্তা চাকুরীবিধি লঙ্ঘনের মাধ্যমে শুরু থেকেই বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড গ্রুপের জমি কেনাবেচার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করে। দপ্তরের কাজের প্রতি মনোযোগের চেয়ে তার এদিকেই বেশি মনোনিবেশ থাকে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে সে বড় অংকের মাসোহারার পাশাপাশি বিশাল অংকের কমিশন পেয়ে থাকে। ফলে তার লাইফস্টাইল বোর্ডের মহাপরিচালকের চেয়েও বেশি জাঁকজমকপূর্ণ৷
বাপাউবোর কুখ্যাত ভূমিদস্যু হিসেবে সর্বজনবিধিত উক্ত রশিদ মোল্লাহ্ নিজস্ব উদ্যোগে বাপাউবো কর্মকর্তা বহুমূখী সমবায় সমিতি লিঃ (রেজি নং-১৩১) গঠন করে সমিতির ব্যানারে সাভার এবং আশুলিয়ায় দুইটি আবাসিক প্রকল্প গড়ে তুলেছে। কিন্তু প্রকল্পের প্লট প্রাপ্তিতে সৃষ্ট দীর্ঘসূত্রতার কারণে অধিকাংশ কর্মকর্তা প্লট ছেড়ে দিলে রশিদ মোল্লাহ্ কৌশলে প্লটসমূহ তার দখলে নিয়ে নেয়। এভাবে এই কর্মকর্তা কমপক্ষে ২০ টি প্লটের মালিকানা অর্জন করেছে। এছাড়াও নামে বেনামে গুলশান-বাড্ডা সংলগ্ন এলাকায় কমপক্ষে ১০ টি ফ্ল্যাটের মালিক হয়ে বসে আছে।
এ বিষয়ে রশিদ মোল্লাকে ফোন করে কথা বলতে চাইলে তিনি উত্তর না দিয়েতার সহযোগী একজন ঠিকাদারকে দিয়ে কথা বলেন। সেই ঠিকাদার সংবাদটি প্রকাশ না করতে ও মোল্লার গুনকীর্তন শুরু করলে ফোন ডিসকানেক্ট হয়ে যায়।