বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি
দিগন্ত জোড়া মুগডালের আবাদে ছেয়ে গেছে বরগুনার বামনা উপজেলার মাঠগুলোতে। অল্প সময়ে কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে মুগ ডালের আবাদ। ইতিমধ্যেই সকল মাঠের মুগডাল পাকা শুরু হয়েছে। পড়ন্ত বিকেলের নরম রোদে দক্ষিণা বাতাসে মাঠে পাকা মুগ ডাল সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। তবে শ্রমিক সংকটের কারনে অনেক চাষী ডাল ঘরে তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় চলতি মৌসুমে মুগডালের আবাদ হয়েছে বেশি। ফলনও ভালো হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারা মাঠজুড়ে কৃষান-কৃষানিরা হাসিমুখে মুগ ডাল সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কোন কোন কৃষক বলেন মুগডাল পাকলেও শ্রমিক না পাওয়ার কারণে মুগ ডাল বাড়িতে তুলতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে। উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের ভাইজোড়ার কৃষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘মুগডাল আবাদে খরচ কম এবং ফসলের দাম পাওয়া যায় ভালো। তবে একই সময় সবার ডাল পেকে যাওয়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। তাই ডাল তুলতে গ্রামের নারী ও শিশুদের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে। যদি ডাল তোলার মেশিন থাকতো তাহলে বেশি লাভবান হওয়া যেত।’এছাড়াও তিনি জানান, ‘একদিকে শ্রমিক সংকট অপরদিকে প্রচন্ড রোদের তাপ। তাই ফসলের অধিকাংশ পরিমাণই তুলুনিরা দাবি করেন।’বামনা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ৩ শ ৩০ হেক্টর জমিতে মুগডালের চাষাবাদ হয়েছে। অল্প সময়ে কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় দিন দিন মুগ ডাল চাষে ঝুকছেন কৃষকরা। উপজেলার বুকাবুনিয়া, রামনা ও ডৌয়াতলা ইউনিয়নে ব্যাপক হারে মুগডাল চাষাবাদ হয়েছে। আবহাওয়া কিছুটা অনুকুলে থাকায় এ বছর মুগডালের ফলন ভালো হয়েছে।উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওযার্ডের কৃষক মো. রহিম উদ্দিন বলেন, ‘আমি বরাবরই মুগডালের চাষাবাদ করি, এবছরও ৪৫ শতাংশ জমিতে মুগডালের আবাদ করেছি। অনুকূল আবহাওয়া এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ না হওয়ায় ফলন ভাল হয়েছে।’উপজেলার ছোনবুনিয়া গ্রামের কৃষক নির্মল শীল জানান, ‘কৃষি অফিসের পরামর্শেক্রমে ৬০ শতাংশ জমিতে মুগডালের চাষাবাদ করেছিলাম। ফলন বেশ ভালো হয়েছে। লাভের আশা করছি।’মোসা. চম্পা বেগম নামের এক নারী শ্রমিক মুগডাল তুলতে এসে ক্ষেত থেকে বলেন, ‘আমার নিজের জমি নাই, অন্যের ক্ষেতে ৪ ভাগে ডাল তুলছি। এরকম আমার মতো অনেকেই এ মৌসুমে ডাল তুলে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।’এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসা. ফারজানা তাসমিন বলেন, ‘প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও বামনাতে মুগডালের চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এ বছর মুগডালের চাষাবাদ কিছুটা কম হলেও বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকারের কৃষি প্রনোদনায় এ বছর ২ হাজার জনকে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচীর আওতায় এনে কৃষকদের মুগডাল চাষে উৎসাহিত করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবছর কৃষকরা মুগডালের আবাদে বেশ লাভবান হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।’