ঈদুল ফিতরের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন পুরো পরিবার। এসে দেখেন বাসার পুরোটা ডাকাতি হয়েছে, স্বর্ণ অলঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট হয়েছে। রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার ৮/এ নতুন রোডের আট তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নাছরুল কবির কায়েম (নিহাদ) বৃহস্পতবিার হাজারীবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগী নাছরুল কবির কায়েম নিহাদ পেশায় একজন নির্মাণশিল্প ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক উপকমিটির সদস্য।
ভূক্তভোগী ও মামলার এজহার থেকে জানা যায়, ঈদের আগে ৯ তারিখ বাসার সব দরজা-জানালা বন্ধ করে গ্রামের বাড়ি যান নিহাদ কায়েম। মা স্ট্রোক করায় গত মঙ্গলবার গ্রামের বাড়ী থেকে দ্রুত ঢাকা ফেরেন নিহাদ। কিন্তু বাসায় এসে দেখেন দরজা ভিতর থেকে লক করা। বাইরে থেকে তালা খুলছে না। পরবর্তীতে জরুরী সহায়তা সেবা ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশের সহযোগীতায় ভিতরে প্রবেশ করে তারা। ভিতরে ঢুকে দেখে বাড়ির সব চুরি হয়ে গেছে।
নিহাদ বলেন, ঈদের মাত্র দুই দিন আগে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম এবং আমাদের বাসা সহ আশপাশের প্রায় সব বাসায় সিসিটিভি ও দারোয়ান থাকায় নিজেদের অনিরাপদ ভাবি নাই। এডজাস্টার ফ্যান খুলে চোর ঢুকেছে। আমার মা, স্ত্রী, ছেলের মোট ৩২ ভরি স্বর্ণ ছিলো। সবকিছুই নিয়ে গেছে। ক্যাশ টাকা ছিলো কিছু, সেগুলোও নিয়ে গেছে। এটা পরিকল্পিত চুরি। আমাদের বড় অংকে ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১১ লাখ টাকা লুট হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বাসায় এসে দেখেন মূল দরজা ভেতর থেকে আটকানো। বাড়িতে একজন কেয়ার টেকার ও দুই জন দারোয়ান থাকেন নিয়মিত। তাদের কে জিজ্ঞেস করলে জানান এ বিষয়ে কিছু জানেন না। পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে দেখে ঘরের সব আলমারি ও ওয়ারড্রব ভাঙ্গা ও এলোমেলো এবং ঘরে রক্ষিত আনুমানিক ৪ লাখ ২০০০০ টাকা, ২২ থেকে ২৪ ভরি স্বর্ণ, হিরার ৬ সেট গহনা উধাও। পরবর্তীতে পুলিশ রান্না ঘরে গিয়ে দেখতে পান এডজাস্ট ফ্যান ভাঙ্গা এবং সেই ফুটো দিয়ে চোরেরা রুমে ডুকে এ ধরণের চুরি করেছেন।
আশপাশের বিভিন্ন বাসিন্দারা জানিয়েছেন এই বিল্ডিং সহ আশপাশ এর অনেক বিল্ডিং এ সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে, যদি প্রশাসন চেষ্টা করেন তবে দ্রুত চোর ধরা পড়বে এবং চুরিকৃত মালামাল ও টাকা উদ্ধার হবে।