ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠির গাবখান ব্রিজের টোল প্লাজায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪জনের পরিচয় মিলেছে। মৃতদেহ শনাক্ত করে স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। জেলা জুড়ে বইছে শোকের মাতম। সন্ধ্যা ৭টায় মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাকের চালক ও হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ। আটক চালক ঝালকাঠি সদর উপজেলায় মো. আল-আমিন (২৯) ও হেলপার নাজমুল (২২) তার বাড়ি খুলনায়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে মৃত্য ব্যক্তিদের প্রত্যেক পরিবারকে ৫ লাখ টাকা, পঙ্গুত্ববরণকারীদের তিন লাখ টাকা ও আহতদের এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম। ঘটনার পর প্রায় একঘন্টা সড়কে সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর বেলা সারে তিনটার দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। ১৪ জনের মধ্যে শিশু রয়েছে চারজন, নারী তিনজন ও পুরুষ সাতজন। নিহতদের বাড়ি রাজাপুর, ভান্ডারিয়া ও কাঠালিয়া উপজেলায়। ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আফরুজুল হক টুটুল জানান, বরিশাল বিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিল একটি প্রাইভেটকার ও তিনটি অটোরিকশা যাচ্ছিল শহরে। দুপুর দুইটারদিকে গাবখান টোলপ্লাজায় টোল দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল একটি প্রাইভেট কার ও তিনটি অটোরিকশা। এ চারটি যানবাহন ঝালকাঠি শহরের মধ্যে যাচ্ছিল। এসময় দ্রæতগতিতে আসা একটি সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক (খুলনা মেট্রো ০৯৫৭) প্রাইভেটকার ও অটোরিকশাগুলোকে চাপা দেয়। এতে দুমড়ে মুচড়ে যায় প্রাইভেটকার ও অটোরিকশাগুলো। ঘটনাস্থলেই মারা যায় অটোরিকশার ৬ যাত্রী। পরে প্রাইভেটকার থেকে আরো ৮ যাত্রীকে উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৮ জনের মৃত্যু হয়। পুলিশের নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, এদুর্ঘটনায় রাজাপুরের হাসিবুর রহমান ও তার স্ত্রীসহ একই পরিবারের ৫ জন নিহত হয়েছে। যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন,রাজাপুর উপজেলার সাংগর গ্রামের বারেক হাওলাদারের মেয়ে নাহিদা আক্তার (২৭), জামাতা হাসিবুর রহমান (৩২), সন্তান তাকিয়া (সাড়ে চার বছর), তাহমিদ (৮মাস), সদ্য বিবাহিত কন্যা নিপা (২২) জামাতা বিমান বাহিনীর সদস্য ইমরান হোসেন (২৬), গাবখানের সেলিম হাওলাদারের পুত্র নজরুল (৩৫), ওস্তাখান গ্রামের মান্নান মাঝির ছেলে শফিকুল মাঝি (৫০), ঝালকাঠির শেখেরহাটের নওপাড়ার আব্দুল হাকিমের ছেলে আতিকু রহমান সাদি (১১),কাঠালিয়ার তালগাছিয়ার ইব্রাহিমের মেয়ে নুরজাহান (৭), স্ত্রী তাহমিনা (২৫), রাজাপুরের উত্তর সাউথপুরের হাসিবুর রহমানের স্ত্রী সনিয়া বেগম (৩০), স্বরূপকাঠির রুহুল আমীন ও টোল প্লাজার সামনের ভিক্ষুক শহিদুল ইসলাম (৪৫)। মৃতদেহ শনাক্তের পরে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঝালকাঠি সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত শেষে উপযুক্ত প্রমাণাদি স্বাপেক্ষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।