মোঃ শরিফুল ইসলাম, দাউদকান্দি
এক জন আটক বাকিরা পলাতক। অভিযোগকারীর দাবি আসামী কেনো ধরা হয় না। দাউদকান্দি দক্ষিণ মোহাম্মদপু ইউনিয়ন দরজখোলা গ্রামে চারু প্রধান বাড়িতে রাত দুই টায় জানালার গ্রিল কেটে ডাকাতি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, এই ঘটনা ঘটে গত (১৩ই ডিসেম্বর ২০২৩) দিবাগত রাত ২টায় । অভিযোগকারী মোঃ মহসিন বলেন,এটা আমার শশুর বাড়ি আমি ও আমার স-পরিবার- (১২ ই ডিসেম্বর ২০২৩)সন্ধ্যায় আমার শশুর বাড়িতে বেড়াতে আসি। এই রাতে আমরা সবাই খাবার খেয়ে ১৩ ডিসেম্বর রাত ১২.৩০ মিনিটে সবাই ঘুমিয়ে পড়ি। অর্থাৎ এই রাতে অনুমান ২ টায় আমার শাশুড়ী বসত ঘরে কিছু আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙ্গে যায়। তিনি ঘরের লাইট জ্বালিয়ে কিছুই দেখতে পেলেন না। কিছু দেখতে না পেয়ে আমার শাশুড়ি তাঁর রুমে চলে আসার সাথে সাথেই মুখে মাস্ক এবং হাতে গ্ল্যাভস পড়া অনুমান ৭/৮ জনের ডাকাত দল এসে তার হাত পা বেঁধে কম্বল চাপা দিয়ে পুরো-পরিবার সদস্য দের কে একটা রুমে আটকে রাখে। পরে ডাকাতদল ঘরের আলমারি সুটকেস লকার ভেঙ্গে ফেলে আমার শাশুড়ির ডাকচিৎকার দিতে গিয়ে লাথি ঘুষি আরো নানান ভাবে আহত হয়। আমি চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি সব কিছু ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। আমি বাধা দেওয়া আমাদের সবাইকে হাত পা বেঁধে ফেলে ডাকাত দলেরা। তাদের কাছে রামদাও, ছেনি, রাইফেল, ও অন্যান্য যন্ত্র ছিল । এক পর্যায়ে ডাকাত দলেরা আলমারির লকারে থাকা ৮ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, যার মূল্য অনুমান ৮ লক্ষ টাকা , রুপা প্রায় ৫ ভরি ওজনের যার মূল্য অনুমান ৫ হাজার টাকা। নগদ ক্যাস ৩০, হাজার টাকা সহ ২টি দামি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও ঘরের অনেক প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে যায়। সকালে বাড়ির মানুষেরা জানতে পেরে আমাদের সবার হাত পায়ের বাঁধন খুলে দেয়। সকালে সবাই দেখতে পায় বসত ঘরের ড্রইং রুমের গ্ৰিল কেটে ঘরে প্রবেশ করেছে। পরে আমি ট্রিপল নাইনে কল দিলে পরে গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস আই রাজিব এসে সব তথ্য নিয়ে চলে যায়। পরে আমি মামলা করতে থানায় তার কাছে যাই।আমি ডাকাতির মামলার অভিযোগ দিলে সে আমাকে না বলে চুরির মামলা লিখে দেয়। আমাদের ডাকাতি করা মোবাইল ফোনের মাধ্যম লোকেশন টেক করে ৩ জন আসামী ধরে তাদের কে চুরির মামলা দিয়ে চালান করে। পরে এর মধ্যে দুই জন বেরিয়ে আসে আমাদের কে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আসমীরা হলেন,মোঃ কামাল হোসেন (৩২), পিতা-আব্দুর রশিদ, গ্রাম দক্ষিন নগর, শিশির দাস(২৫), পিতা-রিপন চন্দ্র দাস, গ্রাম দক্ষিন নগর (শীলবাড়ী), জাবেদ (২৮), পিতা-জহির, গ্রাম কালাশোনা (মোল্লা বাড়ী), নাঈম(৩৪), পিতা-আ: মজিদ ও অজ্ঞাতনামা আসামি ৫/৬ আছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমার এতো গুলা স্বর্ণ, টাকা পয়সা নিয়ে গেলো কিন্তু পুলিশ কিছুই উদ্ধার করে নাই। আমি মিডিয়ার মাধ্যমে আবারো প্রশাসনের সুদৃষ্টি দাবি জানাচ্ছি। আমি আমার ন্যায্য বিচার চাই। পরে অভিযোগকারী মোঃ মহসিন আরো ও জানান, ডাকাতরা বিভিন্ন অপরিচিত নাম্বারে আমাদেরকে হুমকি ধুমকে ভয় ভীতি দেখাচ্ছে, যাতে আমরা মামলা তোলে নেই। যদি মামলা না তুলি তাহলে আমাদেরকে প্রাণে মেরে ফেলবে। বিষয়টি এস আই রাজিবকে জানানোর পরও সে আমাদের কথা শুনছেন না। আমি জানি না। তিনি বক্তব্যে আরোও অনেক কিছু বলেছেন। এলাকাবাসীরা জানান আমরা গ্রামবাসীরা এটার একটা সুস্থ বিচার চাই।অভিযোগকারী মোঃ মহসিনের কাকা শশুর বলেন, আমি প্রবাসে থাকি ঘটনা শুনে আমি কয়েকদিনের মধ্যে দেশে এসেছি। দেশে এসে দেখি ডাকাত দলের সব আসামিরা এলাকা লুকিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পরে আমরা জানতে পেরে আসামিকে ধরার জন্য পুলিশকে খবর দেই, তারা কাজের ব্যস্ততা দেখিয়া আর আসে না। এইটার আমি সুস্থ বিচার চাই। তিনি বক্তব্যে আরোও অনেক কিছু বলেছেন। এই ব্যাপারে গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রেে এস আই রাজিব এর সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে চাননি।