মোঃ মাসুদ রানা, স্টাফ রিপোর্টার
১৮৭০ সালে ১১০একর ভূমি জুড়ে বৃটিশদের স্থাপিত এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ নীলফামারী সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাটি আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষদের সেবা দিতে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ঘরমুখো মানুষকে স্বাচ্ছন্দে ঘরে ফেরাতে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় চলছে পুরাতন কোচ মেরামতের কাজ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে শুরু করে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ চলছে কারখানার ২৯টি বিভাগে। শ্রমিকরা কেউ রং আবার কেউ বডি প্রস্তত করণ আবার কেউবা সিট মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জনবল সংকটের কারণে অতিরিক্ত সময়ও কাজ করতে হচ্ছে। মানুষের নিরাপদ ঈদযাত্রায় এই বাড়তি শ্রমেই আনন্দ খুঁজছেন তারা।
আর এসব লক্কর-ঝক্কর কোচ ঝকঝকে-চকচকে করে তুলতে কারখানার মাত্র ২৭শতাংশ জনবলের যেনো দম ফেলানোর ফুসরত নেই। তারপরেও যাত্রীদের নির্বিঘেœ ঘরে ফেরানোর সেবা নিশ্চিতে স্বার্ধকতা খুঁজছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। নির্ধারিত সময়ের মাধ্যে বাকী সব কোচ মেরামত করে ট্রাফিক ডিভিশনে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে তাদের।
আসছে ঈদে নারীর টানে ঘরে ফেরা মানুষের বাড়তি চাপ সামলাতে রেলপথে যুক্ত হবে এক’শ ১০টি ঈদ স্পেশাল কোচ। আর এসব কোচ মেরামতেই ব্যস্ত সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। ইতোমধ্যেই শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রস্তুত হয়েছে ১০৮টি কোচ। বাকী সব কোচের মেরামত চলছে ক্যারেজ, বগি, ওয়াগন, পেইন্টসহ বেশ কয়েকটি সপে। লক্কর-ঝক্কর এসব কোচকে মেরামত করে রূপ দেয়া হচ্ছে নতুনে। পুরাতন সব চাকাকে মেশিনে ঘসে করা হচ্ছে সচল। সময় ঘনিয়ে আসায় নির্ধারিত সময়ে এসব কোচ প্রস্তুত করতে বাড়তি ১ঘন্টা সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে শ্রমিকদের। এতে অতিরিক্ত পরিশ্রম হলেও যাত্রীদের সেবার মান নিশ্চিতে স্বার্থকতা খুঁজছেন তারা।
পেইন্ট শপের শ্রমিক শরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের শপের কাজ হচ্ছে কোচগুলো রং করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা। লোকসংখ্যা কমের কারণে খুব কষ্টের মধ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি, সেটা কর্তৃপক্ষের চাপে হোক কিংবা আমাদের দায়িত্ব থেকে হোক । রেল যেহেতেু সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। আমরা সেবার জন্য সবসময় বেশি করে শ্রম দেই। যাতে যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি না হয়।
রেলওয়ে কারখানাটি বগি সপ ইনচার্জ শাহিনুর আলম সুমন বলেন,
কারখানায় প্রায় ৭৩শতাংশ শ্রমিক সংকট হলেও উৎপাদন চলমান। ঈদে ঘরমুখো মানুষের বাড়তি সেবা নিশ্চিতে মাত্র ২৭শতাংশ জনবল দিয়েই চলছে মেরামতের কাজ। শ্রমিকদের সহায়তায় নির্ধারিত সময়ে ১১০টি কোচ হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের ।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাটি
উর্দ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ক্যারেজ সপ ইনচার্জ মোমিনুল ইসলাম বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার আন্তঃনগর ট্রেনের সাথে যুক্ত হবে। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় মেরামত হওয়া ১১০টি মধ্যে ইতোমধ্যে প্রস্তুত হওয়া ৯০টি ব্রডগেজ ও ১৮ টি মিটারগেজ বগি চলে গেছে পাকশী ও রেলওয়ে বিভাগের কাছে।
কোচ সময় মতো দিতে পারবো । সক্ষমতার চেয়েও অতিরিক্ত পরিশ্রমের এই কোচ গুলো ঈদে ঘরমুখো মানুষকে নিরাপদে পৌছাবে এমনটাই প্রত্যাশা এই কর্মকর্তার।
এবিষয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার তত্ত্বাবধায়ক( ডিএস) সাদেকুল ইসলাম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে শ্রমিক সংকটের মাঝেও সবাই অক্লান্ত পরিশ্রম করে অতিরিক্ত রেলকোচ মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছে রেলওয়ে কারখানা শ্রমিক, কর্মচারী কর্মকর্তারা ৷আশা করি সময়মত রেল কোচ মেরামত করা হবে এবং ঈদে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবে।
পে-অব: জানা যায় এশিয়া মহাদেশে সৈয়দপুরে , ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত বা কারখানাটি স্থাপন করেন। কারখানার ২৯টি শপে রেলকোচ মেরামতের কাজ চলছে। সে সময় দুই হাজার ৮৫৯ জনবল ছিল।এর বিপরীতে বর্তমানে ৮৬০ জন কর্মরত আছেন। ধীরে ধীরে জনবল কমে যাওয়ার পরও এ কারখানায় প্রতিদিন একটি কোচ ও একটি ওয়াগন মেরামত করা হয়। এছাড়া রেলওয়ের নানা ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি করা হয় এখানে। যদিও এ কারখানায় জনবল ও উপকরণ সংকটসহ নানা সমস্যা রয়েছে, তবুও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতায় সব সময় কাজে গতি মেলে। তবে শ্রমিকদের অতিরিক্ত কাজের জন্য অতিরিক্ত কাজের মজুরি ব্যবস্থা করা হয়েছে।