মোঃ সাইফুল্লাহ, ইবি
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মুক্ত মঞ্চ তৈরির জন্য কাটা হয়েছে গাছ। মঙ্গলবার (০৫ মার্চ) বেলা ১১টায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যতম স্থান বটতলা এলাকায় গাছ কাটায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনটি আল-কোরআন এন্ড ইসলামীক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আছিবুর রহমান এর সঞ্চালনায় দাওয়াহ এন্ড ইসলামীক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হাসানুল বান্না ওলি বলেন বিশ্ববিদ্যালয় সৌন্দর্যতম স্থানের মধ্যে বটতলা একটি। এর দুই পাশে দুইটি একাডেমীক ভবন রয়েছে ও পশ্চিমে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ রয়েছে। এমনস্থানে অপসংস্কৃতির নামে মুক্তমঞ্চ আমরা কখনো মেনে নিবো না। ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী নেয়ামুল ফারাবী বলে গাছ কেটে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই গাছ হত্যার বিচার চাই । জানা যায়, বটতলার নিজস্ব সৌন্দর্য বৃদ্ধিসহ পুরো বটতলা এলাকা ছায়া দিতো এ গাছগুলো। এতে নানান সময় আড্ডার জন্য এখানে বসে শিক্ষার্থীরা পেতো স্বস্তি। এই অবস্থায় গাছগুলো কেটে প্রশাসনের আগ্রাসনের কারণে নিজস্ব সৌন্দর্য হারিয়েছে বটতলা। এদিকে নব নির্মিত মুক্ত মঞ্চ থেকে প্রায় ৩০ মিটার দূরত্বে দুইটি একাডেমীক বিল্ডিং রয়েছে। দুইটি একাডেমীক বিল্ডিংয়ে বিভিন্ন বিভাগের ল্যাব ও ক্লাস রুম রয়েছে। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীদের দাবি, ক্লাস রুমের কাছে মুক্ত মঞ্চ তৈরি হলে আমাদের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন গাছগুলো আমাদের সম্পদ। এগুলো সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। যদি খুব প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এই গাছগুলো কাঁটতে হয় তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা নেবার দাবি জানাচ্ছি।’ এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এরকম গাছ কাটা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শরিফ মো. আল-রেজা বলেন, বটতলায় প্রোগ্রাম হলে আমাদের ক্লাস পরীক্ষায় ডিস্টার্ব হয়। তারপর যদি আবার একই এলাকায় মুক্ত মঞ্চ তৈরি করা হয়, সেইক্ষেত্রে আমাদের ক্লাস পরীক্ষায় আরও ডিস্টার্ব হবে। আমাদের দাবি থাকবে জিনিসটা যাতে অন্য জায়গায় করা হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন অভয়ারণ্যের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ ইমন বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো গাছগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। আমাদের আহ্বান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেনো আর একটি গাছেও হাত না দেয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এ. কে. এম শরীফ উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে একটি কাজ দিয়েছিল। আমি ওইকাজের চাহিদা প্রশাসনকে জানিয়েছি। এর বেশি কিছু আমি জানিনা। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বলেন, ‘বিষয়টি প্রক্টরের কোন ফাংশন না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।’
এ বিষয়ে এস্টেট অফিসের দায়িত্বরত উপ-রেজিস্ট্রার শামসুজ্জামান জোহা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের অনুমতি নিয়ে গাছগুলো কাটা হয়েছে। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোন সিদ্ধান্ত নেই।’