এনামুল কবির সবুজ, কেশবপুর
এক সময় সদরঘাটের পানের কথা শোনা গেলেও এখন কেশবপুর বাজারের চিংড়ি মোড় মনি ভাইয়ের পানের দোকানের মনকাড়া বাহারি স্বাদের পান’ দিন দিন সকলের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাহারী রঙের মসলাযুক্ত এ পান মানুষের নজর কাড়ছে। বাহারি মসলা সহ পান সুপারি খাওয়া থেকে আমাদের অতিথিদের আপ্যায়ন করা থেকে অসাধারণ একটি বিষয় ছিল। ৭০ দশক থেকে বর্তমান ২০২৩ সাল এসে আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ একটি খাদ্য পান সুপারি।যে কোন খাবার শেষ করে নিয়ম করে আমাদের একটি পান বাধা প্যাকেজ লাগে। প্রায় অর্ধশত পদের উপকরণ দিয়ে তৈরি পানের স্বাদ নিতে তরুণ-তরুণীরা বেশি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাঙালি অতিথিপরায়ণ জাতি। খাবারের পর পান দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন বাঙালি জাতির প্রাচীন ঐতিহ্য। সময়ের সঙ্গে হরেক রকম নামে নামকরণ হয়েছে পানের। যেমন, বেনারসি পান, শাহি পান,ছাচি পান, কাশ্মীরি পান, জামাই-বউ পান, প্রেমিক-প্রেমিকা পান, ভালোবাসার পান, হানিমুন পান সহ বিভিন্ন রকমের পান রয়েছে। চিংড়ি মোড়স্ত বিহ্ম্যাত খুচরা পান ব্যাবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন,আমি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে খীলি পান বিক্রি করে থাকি, অনেক দুর দুরান্ত থেকে অনেকেই আমার পান খেতে আসে,ভালো মানের পান সুপারি ও হরেক রকমের জর্দা দিয়ে পান বাননোর জন্য সকলে আমার হাতের পান খেতে ছুটে আসেন। বৃদ্ধ যুবক থেকে শুরু করে সকলে আমার হাতের পান খুব পচন্দ করেন। পানের অনেক রকমের নাম রয়েছে,তাই যে নামেই ডাকা হয় না কেন পান তো পানই। খেয়ে ঠোঁট লাল করাই এর উদ্দেশ্য। পানে এখন আর শুধু চুন, সুপারি আর খয়েরই ব্যবহৃত হয় না। মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, মোরব্বা, খেজুর, কিচমিচ, খোরমা, তানশিন, তেরেঙ্গা, এলাচ, চমন বাহার, তরক, ইমাম, নারকেল, সেমাই, ঝুরা ইত্যাদি। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়স্ক লোক সবার কাছেই আমার এ পান হয়ে উঠছে জনপ্রিয়। পানে কি মসলা ব্যবহার করেন এমন প্রশ্ন করতেই মনিরুল ইসলাম বলেন,মোরব্বা, খেজুর, খোরমা, তানশিন, তেরেঙ্গা, চমন বাহার, এলাচ, নারিকেল, কিসমিস, সেমাই, ঝুড়া ইত্যাদি । তিনি বলেন, এসব মসলার সবগুলোই দেশে পাওয়া যায় না। বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। আর এই বাহারি মসলার স্বাদের কারণেই তার দোকানের বিশেষত্ব। মনিরুল ইসলামের পান স্টলে পান খেতে আসা বাকাবর্শি গ্রামের জহিরুল ইসলাম বলেন,আমি মনিরুল ভাইয়ের দোকানের পান ছাড়া অন্য কারো দোকানের পান খাইনা। আমি প্রায় ৬ বছর ধরে এই দোকানের পান খেয়ে আসতেছি। তার বানানো পান আমার মুখে অন্য রকম একটা স্বাদ এনে দেয়। অনেকেই কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে ১০ থেকে ২০ টি পানের খিলি পকেটে করে নিয়ে যায় বলে ব্যাবসায়ী মনিরুল ইসলাম জানান।