সোহাগ মিয়াজী
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মোঃ জুনাব আলী নামের এক মুক্তিযোদ্ধাকে স্থানীয় প্রশাসনকে না জানিয়ে দাফন করা হয়েছে। পরদিন রোববার (২২ অক্টোবর) সকালে সাংবাদিকদের কাছে মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ তানভীর হোসেন চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার উত্তর ফালগুনকরা বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে ছুটে যান।
বিধান অনুযায়ী কোন বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা গেলে খবরটি জানাতে হবে স্থানীয় প্রশাসন ও থানাকে। তারা এসে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানাবেন। গার্ড অব অনার, জাতীয় পতাকায় কফিন মোড়ানো, বিউগলের করুণ সুর বাজাবেন, রাষ্ট্রীয় সালাম, পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। কিন্তু সেসবের কিছু না করেই দাফন করা হয়েছে রণাঙ্গনের সৈনিক জুনাব আলীকে। কারণ কেউই প্রশাসন ও থানাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুর বিষয়টি জানায়নি।
শনিবার (২১ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার ফাল্গুনকরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মুক্তিযোদ্ধার ছেলে জানান , আমার পিতার মৃত্যুর খবরটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরদিন রবিবার সাংবাদিকদের মারফত জানতে পেরে সাথে সাথে আমাদের বাড়িতে ছোটে আসেন এবং খোঁজ খবর নেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোক জানান। আমাদের পরিবারকে দাফনের জন্য বরাদ্দকৃত একটি সরকারি অনুদানের চেক প্রদান করেন।
এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হাসেম বলেন, দাফনের ১০-১৫ মিনিট আগে আমাদের আরেকজন মুক্তিযোদ্ধা ভাই আমাকে মুক্তিযোদ্ধা জনাব জুনাব আলীর মৃত্যুর খবরটি জানায়। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম জানাজা কখন? সে আমাকে বলল রাত ৯টায়। আর যেহেতু সূর্যাস্তের পরে গার্ড অফ অনার দেওয়া সরকারি ভাবে কোন বিধান নেই। এত কম সময়ে মধ্যে বিষয়টি জানাতে সেজন্য আর প্রশাসনকে জানানো হয়নি। পরিবার যদি ঘন্টাখানেক আগে জানাতো তাহলে আমরা প্রশাসনকে অবহিত করতাম।
চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা জুনাব আলীর মৃত্যুর খবর কেউই আমাদের জানায়নি। আমি জানলে কুমিল্লা থেকে সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এনে গার্ড অব অনার দিতাম। সাংবাদিক কর্তৃক ইউএনও মহোদয় পরদিন রোববার (২২ অক্টোবর) মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুর খবরটি জানবার পর আমাকে অবহিত করেন।এ ঘটনা শুনে হতবাক হয়েছি। পুলিশবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর গার্ড অব অনার দিতে সব সময় প্রস্তুত।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, জাতির সূর্য সন্তান। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অফ অনার দেওয়া আমাদের ইউএনও দের জন্য একটি পবিত্র দায়িত্ব, যেটা আমরা নিষ্ঠার সাথে সর্বদা পালন করে থাকি। বীর মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন বলেই আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক।বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব জুনাব আলীর মৃত্যুর খবর কেউই আমাদের জানায়নি। পরদিন ঘটনাটি শুনে দ্রুত বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব জুনাব আলীর বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের খোঁজ খবর নেই। তার শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে আসি। এটা খুবই দুঃখজনক যে আমাদেরকে কেউই বিষয়টি জানায়নি। কোন বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা গেলে প্রশাসন বা থানাকে আবশ্যিকভাবে অবহিত করবার জন্য অনুরোধ জানান।