আমিরুল ইসলাম অল্ডাম, মেহেরপুর
মেহেরপুরে একাত্তরের সেই ভয়াল দিনগুলির কথা , গণহত্যার ইতিহাস ভুলে যেতে বসেছে শহীদ পরিবারের সদস্যরা। স্বাধীনতা যুদ্ধের সেই স্মৃতি বাঙ্গালীদের নাড়া দিলেও মেহেরপুরের বিবেকবান মানুষ বে-মালুম ভুলে গেছে সেই দিনগুলির কথা। স্বাধীনতার ডাকে মুক্তিযুদ্ধে তরুণ-যুবকরা ঝাপিয়ে পড়লেও পাক হানাদার বাহিনীর হাতে রেহায় পায়নি তাদের পরিবার। রাতের আঁধারে ধরে নিয়ে এসে অমানুষিক নির্যাতন শেষে গুলি করে হত্যা করার সেই বিভৎস্য নারকীয় ঘটনা আজও মনে পীড়া দেয়। হ্যাঁ , এতক্ষণ আপনারা সবাই বুঝতে পেরেছেন, মেহেরপুরের ইতিহাসে একাত্তরের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলির কথা।বর্তমান মেহেরপুর সরকারী ডিগ্রী কলেজ ও মেহেরপুর সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ আজও সেই স্মৃতিচিহ্ন বয়ে নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এই দুটি জায়গায় এদেশের সূর্য সন্তান তথা বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে এসে নির্মমভাবে হত্যা করে মাটি চাপা দিয়েছে। সেই লাশ কিছু মাটি চাপা দিলেও অনেক লাশ কুকুর,শিয়াল শকুনে ছিড়ে ছিড়ে খেয়েছে। যার স্বাক্ষী মেহেরপুরের অনেকেই রয়েছেন। জানা গেছে, তৎকালীন মেহেরপুর ডিগ্রী কলেজের পিছন দিকে (বাগানের দিকে)সিড়ির পার্শে এর্ব কলেজ বিল্ডিংএর পূর্ব দিকের কোণে একটি বিশাল গর্ত ছিল। সেই সময় পাক হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প হিসেবে মেহেরপুর কলেজ এবং পার্শ্ববর্তী মেহেরপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ ক্যাম্পাস ব্যবহার করা হয়েছিল। পাক হানাদার বাহিনীর ব্যবহৃত জীপ গাড়িটি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের মধ্যে আজও ধ্বংস্াবশেষ ঝোপের মধ্যে পড়ে রয়েছে। আজও জানান দিচ্ছে সেই জলপাই রংয়ের জিপগাড়ি ব্যবহার করে আমাদের দেশের নিরীহ মানুষকে ধরে নিয়ে এসে হত্যা করেছে। টেকনিক্যাল কলেজের মধ্যে এক কোণে গাছ গাছালি ও লতা পাতায় ঢাকা পড়ে রয়েছে সেই জিপগাড়িটি। স্বাধীনতার ৫২ বছর অতীত হলেও সেই গাড়ির খবর কেউ রাখেনা। নতুন প্রজন্মকে দেখানো যেতে পারে কেমন ছিল সেই দিনগুলি। কেমন ছিল পাক হানাদার বাহিনীর ব্যবহৃত গাড়ি। কিছুদিন আগেও সেই গাড়িটির চাকা, বডি, ইঞ্জিন সবই ছিল। কিন্তু ইদানিং সেই গাড়িটির সেই চাকা,টায়ার টিউব,বডির যন্ত্রপাতিগুলো এখন আর দৃশ্যমান নয়। অনেক কিছুই মাদকাসক্তরা চুরি করে নিয়ে গেছে। ইতিহাসবিদদের দাবি এই স্মৃতিচিহ্নগুলি সংরক্ষণ করা জরুরী। মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের একজন বধ্যভূমি সংরক্ষণের গবেষক গোলাম মোস্তফা (চারুশিল্পী) জানান, তৎকালীন মেহেরপুর কলেজ ছিল পাক হানাদার বাহিনীর টর্চার সেল।এখানেই হত্যা করে লাশ ফেলে দেয়া হতো যত্রতত্র, দেয়া হতো মাটি চাপা। মেহেরপুর সরকারী কলেজের সিড়িপথের দেয়ালে সেই রক্তের দাগ-ছোপ এখনও মনে ভয়ভীতির কারন হয়ে রয়েছ্ ে। তিনি আরও বলেন, মেহেরপুর সরকারী কলেজের পূর্ব দিকে একটি বড় গর্ত ছিল। পাক হানাদার বাহিনী এতদঞ্চলের লোকজনকে ধরে নিয়ে এসে হত্যা করে ঐ গর্তে ফেলে দিয়েছিল।সেখানে একটি গণকবর রয়েছে, যে কারনে ঐ স্পটে একটি তাদের শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে বধ্যভুমি সংরক্ষন কল্পে স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে তোলা প্রয়োজন । একই ভাবে মেহেরপুর সরকারী টেকক্যিাল কলেজের মধ্যেও গণকবর রয়েছে। এখানেও বধ্যভুমি হিসেবে সংরক্ষণ করা দরকার। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পাক হানাদার বাহিনীর রেখে যাওয়া জীপগাড়িটিও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এব্যাপারে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো।