ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:
শীতকালে নতুন নতুন সবজি ফলে। কৃষকরা শীতের শুরুতে আগাম সবজি চাষ করে আর্থিক লাভবান হয়ে থাকে।বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী, চিকাশী, বড়বিলা, চাপড়া, জোড়শিমুল, সোনাহাটা, মথুরাপুর, সরুগ্রাম, নাটাবাড়ী গ্রামসহ সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,এ বছর শীতের আগাম সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, লালশাক, লাউ, মুলা, গাজর, মরিচ, টমেটো, মাসকালাই, ডাটা শাক, পালন শাক, সিম, ঢেড়শ, কুমড়া, পেঁপেঁ, বেগুনসহ অন্য শীতকালীন সবজির চাষ বেড়েছে অনেক। গত সপ্তাহে অতি বৃষ্টির কারণে সবজির ক্ষতি হয়েছে ব্যপক। শীতের আগাম সবজি বাজারে দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। উপজেলার বাজার গুলোতে দেখা যায়, বাধাঁকপি প্রতি কেজি৭৫-৮০ টাকা, লাউ ৬০-৭০ টাকা পিছ, পেঁপেঁ প্রতি কেজি ২০-২৫ টাকা, কাচা মরিচ ১৫০-১৮০ টাকা, বেগুন ৭৫-৮০ টাকা, সিম ৮০-৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী সবজি উৎপাদনে কৃষকরা চেষ্টা করলেও বৃষ্টির কারণে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে । সবজিতে ফসলের কান্ড পছন ও পোকার আক্রমণে নষ্ট হচ্ছে অনেক সবজি।গোসাইবাড়ী ইউনিয়নে পশ্চিম গুয়াডহরী গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, এ বছর শীতের আগাম সবজি ১ বিঘা জমি ফুলকপি ও বাধা কপি চাষ করেছি। রোপনের পর থেকেই ঘন ঘন বৃষ্টি হচ্ছে আবার গত সপ্তাহে ভারী বৃষ্টির ফলে কপিতে মুকুল পছন ও পোকার আক্রমণ বেড়েছে কীটনাশক প্রয়োগ করলেও হচ্ছে না প্রতিকার।কৃষক তছলিম উদ্দিন বলেন, বাজারে সবজির দাম বাড়লেও আমরা সবজি বাজার জাত করতে পারছি না বর্তমানে আবহাওয়া অনূকূলে থাকলেও সবজিতে পোকা আর পছনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারছি না।উপজেলার চিকাশী ইউনিয়নের মৃত আজা আকন্দের ছেলে লাউ চাষী বেল্লাল জানান, ১৬ শতাংশ জমি লাউ চাষ করে ফলন ভালো হওয়ায় দাম ও বেশি পাওয়ায় সম্ভাবনা রয়েছে।শফিকুল ইসলাম নামে এক চাষী জানান, শীতেকালীন অন্য সবজির চেয়ে বেগুনে পোকার উপদ্রব গত বছরের চেয়ে বেশি কীটনাশক প্রয়োগে কিছুটা রক্ষা পেলেও জমিতে বৃষ্টির পানি জমাতে কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হয়।ধুনট উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে এ বছর ৬৬০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন আগাম সবজি চাষ হয়েছে। যার মধ্যে মাসকালাই ৭০ হেক্টর, মরিচ ১৪৪, লাউ ৬৭, টমেটো ৬২, বেগুন ৩১, বাঁধাকপি ৮, ফুলকপি ২৫, ডাটা শাক ১৮, লাল শাক ২৭, পালন শাক ২২, সিম ৮৯ ও অন্য সবজি ৯৭ হেক্টর চাষ হয়েছে।