নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় অবৈধভাবে পাচারের সময় ১ হাজার ৫০ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে স্থানীয় জনতা ও পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার শ্যামগঞ্জ–দুর্গাপুর সড়কের আতকাপাড়া এলাকার গিরিপথ ফিলিং স্টেশন থেকে ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে এসব জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পাম্পের ম্যানেজারকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে গিরিপথ ফিলিং স্টেশন থেকে একটি কভারভ্যান ও একটি পিকআপ ভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল। কভারভ্যানে পাঁচটি ড্রামে প্রায় ১ হাজার লিটার এবং পিকআপ ভ্যানে আরও ৫০ লিটার ডিজেল পরিবহন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে গিরিপথ ফিলিং স্টেশন থেকে একটি কভারভ্যান ও একটি পিকআপ ভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল। কভারভ্যানে পাঁচটি ড্রামে প্রায় ১ হাজার লিটার এবং পিকআপ ভ্যানে আরও ৫০ লিটার ডিজেল পরিবহন করা হয়।
ভোরের দিকে গোপনে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহনের বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা গাড়ি দুটি আটক করে প্রশাসনকে খবর দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই রাতের আঁধারে ওই ফিলিং স্টেশন থেকে অবৈধভাবে তেল পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
খবর পেয়ে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দিদারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ১ হাজার ৫০ লিটার ডিজেলসহ কভারভ্যান ও পিকআপ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছোটন মিয়া (৩৫), শামীম আহমেদ (৪০) ও মফিজুল ইসলাম (৩৫) নামে তিনজনকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে সকাল ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসনিম জাহান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি পেট্রোলিয়াম আইন অনুযায়ী অবৈধভাবে জ্বালানি তেল পাচারের দায়ে গিরিপথ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার হাসানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, আটক তিনজনকে পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে জব্দকৃত ১ হাজার ৫০ লিটার ডিজেল জনস্বার্থে একটি স্থানীয় খাল খনন প্রকল্পে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গিরিপথ ফিলিং স্টেশন থেকে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও অবৈধ জ্বালানি বিক্রির ঘটনা ঘটে আসছে। এর আগেও ট্যাগ অফিসার ও প্রশাসনের অনুপস্থিতিতে ফুয়েল কার্ড ছাড়াই তেল বিক্রির অভিযোগ ওঠে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনিম জাহান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি আরও তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে টানা কয়েকদিন ধরে একই ধরনের ঘটনার কারণে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল জ্বালানি তেল পাচার রোধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।