নিয়ামতপুরে এক ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নে একই পরিবারের চার সদস্যকে গলাকেটে হত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে বাহাদুরপুর গ্রামে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
নিহত চারজন হলেন— মো. হাবিবুর রহমান (গৃহকর্তা), পিতা- নমির হোসেন। পপি খাতুন (হাবিবুর রহমানের স্ত্রী)। পারভেজ ইসলাম (হাবিবুর রহমানের ছেলে)। সাদিয়া রহমান (হাবিবুর রহমানের মেয়ে)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে হাবিবুর রহমানের বাবা নমির হোসেন ছেলের ঘরের দরজার সামনে রক্ত দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন। এসময় খাটের ওপর বিছানার চাদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় পরিবারের চার সদস্যের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেন।
পুলিশের ধারণা, দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার (০১:৩০ ঘটিকা) দিকে কোনো এক সময়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
নিয়ামতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ বা এর পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
একই পরিবারের চারজনকে এভাবে নির্বিচারে হত্যার ঘটনায় পুরো বাহাদুরপুর গ্রামে শোকের ছায়া ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রহস্য উন্মোচনে তারা কাজ শুরু করেছে এবং খুব দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।