দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে পিরোজপুরে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় পিরোজপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সার্ভেইলেন্স অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন মেডিকেল অফিসার ডা. সাজিয়া নওশীন, পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম শামীম এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফ হাসান উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১০ মে পর্যন্ত ১১ কার্যদিবসে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চলবে। এর মধ্যে ৮ দিন উপজেলা পর্যায়ে স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং বাকি ৩ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন জনবহুল স্থানে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কর্মসূচির উদ্বোধন হবে ২০ এপ্রিল সকাল ৯টায় পিরোজপুর পৌরসভার করিমুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ে।
ডা. মতিউর রহমান জানান, পিরোজপুরে এ পর্যন্ত ১১৯ জন শিশুকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। তবে আক্রান্তদের সবাই পিরোজপুরের স্থায়ী বাসিন্দা নন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হবে। পূর্বে টিকা নেওয়া থাকলেও এই ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রতিটি শিশুকে এক ডোজ এমআর (Measles-Rubella) টিকা দেওয়া হবে। স্কুলগামী শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং অন্যান্য শিশুদের ইপিআই কেন্দ্রগুলোতে টিকা প্রদান করা হবে।
টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামান্য জ্বর বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে, তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, হামের সংক্রমণ হার অত্যন্ত বেশি এবং এটি শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়, তাই প্রতিরোধে টিকাদান অত্যন্ত জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, এই ক্যাম্পেইন হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা সকলকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান, যাতে একটি শিশুও হাম রোগে আক্রান্ত না হয়।
এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।