আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা মিললেও ভারতের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকার যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও এতে পাকিস্তানের ভূমিকার কোনো উল্লেখ করেনি। অথচ বিভিন্ন দেশ ও বিশ্লেষকরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা যুদ্ধবিরতি, সংলাপ ও কূটনীতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা করে। তবে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতার প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ায় দেশটির ভেতরেই সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তান সরাসরি মধ্যস্থতাকারী না হলেও গুরুত্বপূর্ণ ‘যোগসূত্র’ বা ‘অনুঘটক’ হিসেবে কাজ করেছে। সাবেক কূটনীতিকরা বলছেন, এটি প্রচলিত অর্থে মধ্যস্থতা না হলেও কার্যকর ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না।
ভারতের বিরোধী নেতারা দাবি করছেন, এই সুযোগটি ভারতের কাজে লাগানো উচিত ছিল। তাদের ভাষায়, পাকিস্তান যেখানে কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে, সেখানে ভারত তুলনামূলকভাবে নীরব থেকেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সুসম্পর্ক তাদের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। বিপরীতে, ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক মহলে।
কিছু বিশ্লেষকের মতে, বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করতে গিয়ে উল্টো ভারত নিজেই কূটনৈতিকভাবে কিছুটা একঘরে হয়ে পড়েছে।
তবে অনেকেই মনে করছেন, এই যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত সমাধান নয়; বরং এটি সংঘাতের একটি নতুন ধাপে প্রবেশ মাত্র। যেখানে সামরিক চাপ ও কূটনৈতিক আলোচনাই একসঙ্গে চলবে।
(সূত্র: বিবিসি বাংলা)