এরশাদ রানা, স্টাফ রিপোর্টার (চৌদ্দগ্রাম)
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কৃষকের বুনানো আবেগের সরিষার ফলন এখন বিষ্ময়কর। কথায় কথায় হাসতে হাসতে এবার কারা সরিষা ফলন করেছে চৌদ্দগ্রামের শতাধিক গ্রামের কৃষকরা। যদিও এই অঞ্চলের কৃষকদের জন্য এই ফ
সল ছিল নিত্য মৌসুমের কিন্তু ২০২৪ সালের গেল বন্যায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছিল কৃষকরা, ভেবেছিল জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে নিজেকে মোকাবেলা করতে হবে। টানা সপ্তাহজুড়ে পুরো চৌদ্দগ্রামের ক্ষেত খামার, ঘরবাড়ি, হাটবাজার, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গ্রাম্য সড়কগুলি ছিল অথৈ পানির নিচে, তিল পরিমাণ ঠাঁই ছিল না মানুষের আশ্রয় নেওয়ার।
অনাকাঙ্গিত ভাবে পাওয়া যায়নি পর্যাপ্ত পরিমাণে আশ্রয়কেন্দ্র, বলা চলে ঠিক ঐসময়ে ঘটেছিল এক দূর্বিষহ মুহুর্ত, জীবন বাঁচাতে যেমন শুরু হয়েছিল হাহাকার, অবিকল নিত্যখাদ্যেরও ছিল অধিক সংকট। বিশাল এই প্রান্তিক এলাকার যেদিকেই তাঁকানো হতো শুধু পানি আর পানি-ই চোখে পড়তো, আজ সেই পানি গড়ানো ফসলাদির জমি আবেগের বুনানো সরিষা ক্ষেতে রুপ নিয়েছে।
এসব সরিষার ফলন কৃষকদের জন্য ভরা মৌসুমের মতো বাম্পার ফলনে রুপ দিবে কিনা জানতে চাইলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা বলেন, এইবার চৌদ্দগ্রামের যেসব কৃষকরা সরিষার ফলন বুনিয়েছেন সেটি আমাদের জন্য হবে পুরোই বোনাস।
পরে নিঃস্ব হওয়া কৃষকরা আরো বলেন, এবার সরিষার ফলন তো দূরের কথা, প্রাণে বেঁচে থাকতে পারবো কিনা সে বিষয়েও আতংকে ছিলাম, যে ভূখন্ডজুড়ে এক সাগর পানি দেখেছি। যাহা জন্মের পর কখনোই দেখিনি।
চৌদ্দগ্রামে বিষ্ময়কর সরিষা ফলনের বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জোবায়ের আহম্মেদ এর কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বোরো রবি-৮০ মৌসুমে আমরা উপজেলা জুড়ে ১০০০বিঘা জমি পেয়েছি, তার মধ্যে শ্রীপুর, কাশিনগর, ঘোলপাশায় ৭৬২ হেক্টর জমিতে শুধু সরিষা ফলন হয়েছে। আর এসব ফসলাদি চাষাবাদ করতে গিয়ে স্ব-স্ব কৃষকরা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছ থেকে সহযোগিতাও পেয়েছে, যাহা অতীতের তুলনায় পরিমাণে অনেকটাই বেশি ছিল। কৃষকদের এমন উৎসাহ উদ্দীপনার ফলফস্যু কতোটুকু সফলাদির পথে সে বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রহমত উল্লাহ ও সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তা সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করেছেন।