মোঃ ফারুক হোসেন, পাইকগাছা
পাইকগাছায় মরা গরুর মাংস বিক্রি’র অভিযোগে এলাকায় রীতিমত হৈ-চৈ পড়েছে। অভিযুক্ত মাংস বিক্রেতা পলাতক রয়েছে।এ ঘটনায় পুলিশ ও সেনেটারী ইন্সপেক্টর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।জানাগেছে, পাইকগাছা খুলনা গড়ইখালী ইউনিয়নের কুমখালীর বাসিন্দা শুভঙ্কর মন্ডলের দু’টি পোষা এড়ে গরু বৃহস্পতিবার অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ১টি গরু মারা যায়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। সুত্র জানান,মরা গরুটি মাটিতে পুতে রাখার পরিকল্পনা হয় কিন্তু এরই মধ্যে গড়ইখালীর গফুর গাজীর ছেলে মোকছেদ ও ফকিরাবাদের খোরশেদ গাজীর ছেলে ইলিয়াস ঘটনাস্থলে পৌছে মরা গরু মাগুর মাছের খাবারের জন্য দাবি করলে গরুর মালিক প্রস্তাবে রাজি হয়। জাকির সানাসহ ৩ জনে মরা গরু জবাই করে ভ্যানে যোগে এলাকায় এনে মাংস বিক্রি করে দেন। মাংস ক্রয় করে প্রতারিত হওয়া শান্তার আছাফুর গাজী ও ফকিরাবাদের ইসমাইল মোড়ল জানান, ঐদিন বিকেলে মোকছেদ-খোরশেদ ৫০০ টাকা কেজি দরে প্রয় ৫৫ কেজি মাংস বিক্রি করেন। যা আমরা দু’জনে ২ কেজি করে মাংস ক্রয় করি। পরে জানতে পারি এটা কুমখালী থেকে আনা মরা গরু মাংস। দ্রুত এ খবর ছড়িয়ে পড়লে চারিদিকে রীতিমত হৈ-চৈ পড়ে এবং মাংস ক্রেতারা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে উঠেন। এদিকে শুক্রবার স্থানীয় ক্যাম্প পুলিশ ও উপজেলা সেনেটারী ইন্সপেক্টর উদয় মন্ডল ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে ফ্রিজে রাখা মাংস উদ্ধার করেন। এ বিষয়ে গরু মালিক স্থানীয় মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের কর্মচারী শুভঙ্কর মন্ডল বলেন,বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে আমার স্বাস্থ্যবান দু’টি এড়ে গরু তাপদাহে অসুস্থ্য হয়ে ছটফট করতে থাকে। খবর পেয়ে স্কুল থেকে বাড়ী এসে দেখি ১টি গরু মারা গেছে। স্ত্রী’র কান্নাকাটির এক পর্যায়ে কালীবাড়ি থেকে ওরা মরা গরু ভ্যানে করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে গড়ইখালী ইউপির ২ নং ওয়ার্ড সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ আক্তার হোসেন গাইন বলেন, মরা গরু মাংস বিক্রির ঘটনায় এলাকায় অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি হলে আমি মোবাইলে থানার ওসি’কে অবহিত করি। ওনার পরামর্শ মতে বসাবাসি করে ক্রেতাদের টাকা ফেরৎ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি আরোও বলেন,অনেকেই টাকা ফেরৎ পেয়েছে তবে এ মুহুর্তে অভিযুক্তরা গা-ঢাকা দিয়েছে। মরা গরু জবাই দিয়ে মাংস বিক্রির অভিযোগ সম্পর্কে অভিযুক্ত ইলিয়াস ও মোকছেদের বাড়িতে পাওয়া যাইনি বলে এ দু’জনের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান জি,এম আঃ ছালাম কেরু বলেন, মরা গরু জবাই করে মাংস বিক্রির ঘটনা খুবই দুঃখ জনক। শুনেছি এ ঘটনায় সালিশ করে মিমাংসা চেষ্টা করছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা সেনেটারী ইন্সপেক্টর উদয় মন্ডল মরা গরুর মাংস উদ্ধারের কথা স্বীকার করেছেন।