দেলোয়ার হোসেন জাকির
নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন। কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক। কুমিল্লার ক্রীড়াঙ্গন অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় রোমেন এর নেতৃত্বে এখন অনেক প্রাণবন্ত। নতুন স্টেডিয়াম, গ্যালারী, আধুনিক মিডিয়াবক্স, সুইমিংপুল, জিমনেসিয়াম ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম এখন মুখরিত থাকে খেলোয়াড়, সংগঠক ও কর্মকর্তাদের পদচারনায়।কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার ২০২০-২৪ সালের নির্বাচিত কমিটির সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি।
কুমিল্লা ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনা, ক্রীড়াসম্পর্কিত পরিকল্পনা, আয়োজন ও ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের বিবিধ দায়িত্ব পালন করছেন। ক্রীড়া সংগঠনগুলো হলো তাঁর প্রাণ। বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন এর সুদক্ষ নেতৃত্বে দেশব্যাপী সুনাম কুড়িয়েছে কুমিল্লা। আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন এর জন্মদিন। এই দিনটি বিশ^ ভালোবাসা দিবস হিসেবেও পালিত হয়। তাই জন্মদিনে অফুরন্ত ভালোবাসা তার প্রতি।ক্রীড়াঙ্গনের বাইরে অনেক সামাজিক সংগঠনও তার ছোঁয়ায় প্রাণবন্ত হয়েছে। পিতা-মৃত আলী হোসেন ভূইয়া, মাতা-রেজিয়া বেগম। তিনি ১৯৬৫ ইং সনের ১৭ জুন কুমিল্লা ঝাউতলায় এক সমভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শিশু বয়স থেকে ডানপিটে স্বভাবের ছেলে ছিলেন রোমেন।পারিবারিকভাবেই একজন ক্রীড়া পরিবারের সদস্য হিসেবে গড়ে উঠেন নাজমুল আহসান রোমেন। খেলাধুলাকে সর্বস্তরের জনগণের সাথে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে তিনি বিভিন্ন সময়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে সঠিক দিক-নির্দেশনা দিয়ে অসামাজিক কাজ থেকে দূরে রাখার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন। ক্রীড়া দল গঠনে খেলোয়াড় সংগ্রহ, ক্রীড়া প্রশিক্ষণের আয়োজন, প্রশিক্ষক নিয়োগ ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষক খুঁজে বের করাসহ সংশ্লিষ্ট আরও ক্রীড়া কর্মকান্ড দিয়ে ক্রীড়া সংগঠনগুলোকে তিনি সময় উপযোগী করে সংগঠিত করেছেন।মানুষের বিশুদ্ধ বিনোদনের জন্য যুবকদের খেলাধুলার সাথে সস্পৃক্ত করে এবং বিভিন্ন সময়ে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় তৈরিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। ক্রীড়া উন্নয়নে তিনি তাঁর চলমান জীবনের অধিকাংশ সময়ই ব্যয় করেন। ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ যোগ্যতা অর্জন করেই তিনি এসব দায়িত্ব পালন করছেন।
নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক। ১৯৭৬-৭৭ সালে কুমিল্লা জিলা স্কুলে পড়া অবস্থায় ইগলেটস ক্লাবের পক্ষে ১ম বিভাগ ক্রিকেট লীগে অভিষেক হয়। পরবর্তীতে ইগলেটস ও ইউনিয়ন ক্লাবের হয়ে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। ভিক্টোরিয়া স্পোষ্টিং ক্লাব এর খেলোয়াড় হিসেবে দামাল-ছামাল ক্রিকেট টূর্ণামেন্ট ও ইয়াং পেগাসাসের পক্ষে ঢাকায় ক্রিকেট লীগে অংশগ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন একজন খেলোয়াড় থেকে নিজেকে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৯৩ ইং সনে ইয়াং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর একজন প্রতিভাবান সংগঠক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন। ৯৭-৯৮ ইং সনে জেলা ক্রীড়া সংস্থার হয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড টুর্ণামেন্ট কমিটির সদস্য এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় টুর্ণামেন্ট কমিটির জুনিয়র সদস্য সচিব মনোনীত হন।
২০০২ সালে জাতীয় ক্রিকেট লীগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দলের নির্বাচক মনোনীত হন এবং সহকারী ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রিকেট দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরই মাঝে ক্রীড়া সংগঠক রোমেন ২০০২ সালে জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিভাবান ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব রোমেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কার্যকরী পরিষদের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৭ সালে তিনি কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনে সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ২য় বারের মত কাউন্সিলর নির্বাচত হন। ছোটবেলা থেকেই ক্রীড়ানুরাগী রোমেন গত দুই যুগেরও অধিক কাল ধরে কুমিল্লা ঝাউতলাস্থ শিশু কিশোর ও ক্রীড়া সংগঠন কুমিল্লা ফোকাসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ক্রিকেটারদের মেধা বিকাশে এবং ক্রিকেটের ব্যাপক প্রসারে ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেইস প্রতিষ্ঠিত করেন, যার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সাথে ক্রিকেট একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য অলিম্পিক সলিডারিটি স্পোর্টস কোর্স সম্পন্ন করেন। সদালাপী সহজ প্রকৃতির রোমেন সমাজ কর্মী হিসেবেও নিজকে নিয়োজিত রেখেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি কুমিল্লা ডায়াবেটিকস এসোসিয়েশনের কার্যকরী পরিষদের সদস্য কুমিল্লা ক্লাবের সদস্য, টাউন হলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পান। বর্তমান সময়ে কুমিল্লার ক্রীড়াঙ্গনের একজন নিবেদিতপ্রান ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত ক্রীড়াব্যক্তিত্ব রোমেন। তাঁর সময়ে ক্রিকেট, ফুটবল, এ্যাথলেটিকস সহ সকল ডিসিপ্লিনে স্বর্ণ পদক অর্জন করেছে কুমিল্লা খেলোয়াড়রা। পেশাগত জীবনে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং ব্যক্তিগত জীবনে দুই ছেলেও এক কন্যা সন্তানের জনক। স্ত্রী ফারজানা হাসান খান একজন গৃহিনী।বর্তমান সরকারের সময়ে কুমিল্লার ক্রীড়া ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জনে তাঁর রয়েছে ব্যাপক ভূমিকা। বরাবরই তিনি খেলাধুলার প্রসার ও উন্নয়নের আন্দোলনে নিজেকে জড়িত রেখে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। ক্রীড়াক্ষেত্রে তিনি এখন জেলা থেকে আঞ্চলিক এবং সর্বশেষ জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি অর্জন করেছেন। কুমিল্লা সেটডিয়ামকে আধুনিকভাবে গড়ে তোলার পর থেকেই ক্রিকেট, ফুটবলসহ সবগুলো ডিসিপ্লিন সচল করেছেন। সাবেক ও বর্তমান সকল ক্রীড়া সংগঠক ও খেলোয়াড়দের তিনি মাঠমুখি করেছেন। নানান সহযোগিতায় দাঁড়িয়েছেন বিপদগ্রস্থ খেলোয়াড় ও সংগঠকদের পাশে। কুমিল্লার ক্রীড়া অঙ্গনকে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করাই তার অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি। তিনি মনে করেন বিরামহীন কাজই মানুষের সুনাম বয়ে আনে এবং এর কোনো বিকল্পই নেই। তিনি আরও মনে করেন দেশের ক্রীড়াক্ষেত্র উন্নয়নের জন্য সর্বদাই পাশে থাকা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহারের অবদান কুমিল্লার ক্রীড়াঙ্গনের উত্থানে এক বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।
লেখক : দেলোয়ার হোসেন জাকির
সদস্য, কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও কুমিল্লা জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন।
সদস্য, কুমিল্লা প্রেসক্লাব, স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক দেশ রূপান্তর, প্রকাশক সাপ্তাহিক কুমিল্লার কথা।