গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের কাজী মার্কেট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ গ্যাস সংযোগের এক রমরমা বাণিজ্য চললেও রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাহামুদুর কাজী নামের এক ব্যক্তি প্রায় ৫০০টিরও বেশি বাসাবাড়িতে প্লাস্টিক পাইপ ব্যবহার করে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব সংযোগ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্থাপন করা হয়েছে। নিম্নমানের প্লাস্টিক পাইপ ব্যবহারের কারণে যেকোনো সময় অগ্নিকাণ্ড কিংবা বিস্ফোরণের মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবুও থামছে না এই অবৈধ কার্যক্রম।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের ভাষ্য, সবকিছু দেখেও তারা যেন “কাঠের চশমা” পরে আছেন। ফলে অবৈধ সংযোগদাতারা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ভুক্তভোগীরা জানান, বৈধভাবে গ্যাস সংযোগ পেতে দীর্ঘসূত্রতা ও জটিল প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হয়। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র অবৈধ সংযোগ দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করছে এবং হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অবৈধ গ্যাস সংযোগ শুধু আইনবিরোধীই নয়, বরং জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। দ্রুত এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়ে জানতে মাহমুদুল কাজীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমার বাসা-বাড়ী সব কিছু ছোট ভাই ও বোনকে দিয়ে চলে এসেছি। আর অবৈধ গ্যাস সংযোগ এর বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের তালবাহানা মূলক কথা বার্তা বলে কলটি কেটে দেন তিনি। তবে এবিষয়ে তার ছোট ভাই মাহবুব কাজীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমার বড় ভাই মাহমুদুল কাজী শুধু মাত্র অবৈধ গ্যাস সংযোগ এর ভিতরেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বিভিন্ন অন্যায় কাজের সাথে জড়িত। কোন কাজে ধরা পড়লেই আমাদের উপর দায়বদ্ধতা দেখিয়ে সরে পড়েন। এছাড়াও বাসাবাড়িতে অবৈধ সংযোগ দিয়ে সমস্ত বাসাবাড়ির ভাড়া উঠিয়ে নিচ্ছে তিনি। তার জন্য অনেক জায়গায় অপমান অপদস্ত হতে হয়েছে।
এ ব্যাপারে আশুলিয়া তিতাস গ্যাস এন্ড ট্রান্সমিশন ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর ব্যবস্থাপক প্রকৌ. আবু ছালেহ মুহাম্মদ খাদেমুদ্দীন বলেন, আমাদের কাশিমপুর এলাকায় বৈধ কোন আবাসিক সংযোগ নেই। আমরা মাঝে মধ্যেই আবাসিক এলাকায় গুলোতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিছিন্নসহ মামলা দিয়ে থাকি। তার পরেও অবৈধ সংযোগকারীদের থামানো যাচ্ছে না। আপনার মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয় গুলো একটু তোলে ধরেন, যাতে করে আরও শক্ত হাতে অবৈধ সংযোগকারীদের দমন করতে পারি বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
কাশিমপুরের কাজী মার্কেট এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের এই চিত্র যেন এক অদৃশ্য প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকর ভূমিকা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।