নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া গ্রামের এক অচেনা মানুষকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক হৃদয়স্পর্শী গল্প। গ্রামের কেউ জানেন না তার নাম, পরিচয় কিংবা ঠিকানা। প্রায় তিন থেকে চার বছর আগে হঠাৎ করেই তিনি অজানা কোনো স্থান থেকে এসে এই গ্রামে আশ্রয় নেন। তারপর থেকে সেখানেই কাটছে তার দিন-রাত।
স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। কারও সঙ্গে তেমন কথা বলেন না, নিজের সম্পর্কে কিছুই জানান না। বহুবার তার নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা করা হলেও মেলেনি কোনো স্পষ্ট উত্তর। ফলে গ্রামবাসীর কাছে তিনি এখনও এক রহস্যময় মানুষ।
তবে তার জীবন পুরোপুরি একা নয়। তার সবচেয়ে কাছের সঙ্গী দুটি কুকুর। এই দুই বিশ্বস্ত প্রাণীই যেন তার একমাত্র বন্ধু ও আপনজন। তিনি যেখানে যান, কুকুর দুটি নীরবে তার পিছু নেয়। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত—এক মুহূর্তের জন্যও তাকে ছেড়ে যায় না তারা।
গ্রামের কিছু সহৃদয় মানুষ নিয়মিত তাকে খাবার, পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সহায়তা করেন। বিস্ময়ের বিষয় হলো, তিনি কখনও কারও কাছে কিছু চান না, কাউকে বিরক্তও করেন না। কেউ খাবার দিলে তিনি সেই খাবারের একটি বড় অংশ তার কুকুর দুটির সঙ্গে ভাগ করে নেন। ভালোবাসায় তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন, পাশে বসিয়ে খাওয়ান।
এই দৃশ্য প্রায়ই আবেগাপ্লুত করে গ্রামের মানুষকে। কারণ, যেখানে অনেক সময় মানুষ মানুষকেই ভুলে যায়, সেখানে পরিচয়হীন এই মানুষটি তার প্রাণী সঙ্গীদের প্রতি দেখিয়ে চলেছেন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
স্থানীয়দের ভাষায়,
“তিনি এখন আর বাইরের কেউ নন, আমাদের গ্রামেরই একজন। পরিচয় না জানলেও আমরা তাকে আপন মানুষ হিসেবেই দেখি।”
আজও তার পরিচয় অজানা। তবু স্বরমুশিয়া গ্রামের মানুষের কাছে তিনি আর একেবারে অপরিচিত নন। আর তার দুই বিশ্বস্ত কুকুর—নিঃসঙ্গ জীবনের নীরব সঙ্গী হয়ে প্রতিদিন তার পাশে রয়েছে।
গ্রামবাসীর আশা, কোনো একদিন হয়তো তিনি ফিরে পাবেন তার হারিয়ে যাওয়া পরিচয়, খুঁজে পাবেন তার পরিবার ও আপনজন। ততদিন পর্যন্ত এই গ্রাম আর তার দুই বিশ্বস্ত কুকুরই হয়ে থাকবে তার ছোট্ট পৃথিবী।