সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আলোচিত চিকিৎসক ডা. ফয়সাল আহমেদকে প্রকৃত রোগীর তথ্য জালিয়াতি করে ভুয়া মেডিকেল সনদ প্রদানের অভিযোগে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হদিউজ্জামান শেখ ও নাসির উদ্দিন।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, একটি ফৌজদারি মামলার (জিআর-৪২/২০২৫, বেলকুচি থানা) প্রকৃত রোগী শাহজালালের নথিতে কারচুপি করেন ডা. ফয়সাল আহমেদ। তিনি রোগীর পিতা মহব্বত আলী’র নাম পরিবর্তন করে ‘আলতাব’ এবং শাহজাদপুর থানার পরিবর্তে বেলকুচি থানা উল্লেখ করেন। এছাড়া একই সিরিয়ালে দুই ব্যক্তিকে ভর্তির টিকিট দেওয়ার ঘটনাও প্রমাণিত হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিত সাহা বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ডা. ফয়সালের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হয়ে ডা. ফয়সাল অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
পরবর্তীতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক ওবায়দুল হক রুমি নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রোজিনা খাতুন বাদী হয়ে ডা. ফয়সাল আহমেদ ও বেলকুচি উপজেলার কদমতলী গ্রামের মোতালেব হোসেনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া মেডিকেল সনদ তৈরি করায় দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪৬৩ ধারায় তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
এপিপি হদিউজ্জামান শেখ জানান, ডা. ফয়সালের বিরুদ্ধে এর আগেও জাল সনদ দেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাকে সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে রাখা হয়েছে।