মুজাহিদুল ইসলাম জাবের, ফেনী
ফেনীতে গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে মুহুরী, কহুয়া, সিলোনীয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ২০টি জায়গার ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ করায় ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় দেড় মাসে তিনবার ডুবল ঘরবাড়ি।বন্যার পানিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সড়কে বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল।মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেলায় ১৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান ফেনী আবহাওয়া অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যবেক্ষক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজানের পানিতে সোমবার দুপুর থেকে আবার লোকালয়ে পানি ঢুকতে থাকে বাঁধের ভাঙন স্থান দিয়ে। এতে পরশুরাম উপজেলার পশ্চিম অলকার মাস্টারবাড়ি সংলগ্ন মুহুরী নদীর বাঁধের ভাঙন অংশ,মির্জানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাউতলি কাশিনগর ও চম্পকনগর এলাকায় বাঁধের দুটি অংশ, চিথলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শালধর জহির চেয়ারম্যানের বাড়িসংলগ্ন, দক্ষিণ শালধর, কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের টেটেশ্বর ও সাতকুচিয়া এলাকার ভাঙন অংশ এবং পশ্চিম মির্জানগর এলাকার সিলোনিয়া নদীর বাঁধের ভাঙন অংশ দিয়ে পানি ঢুকছে।ইতিমধ্যে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। লোকালয়ে পানি ঢুকে দুই উপজেলার অন্তত ৭০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার পরিবার। গত ২ আগস্ট মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৭টি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়।পরশুরাম উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, বেঁড়িবাঁধ মেরামত করায় বারবার তলিয়ে যাচ্ছে লোকালয়। ঘরবাড়ির চুলায় রান্না হচ্ছে না। শুকনো খাবার নিয়ে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।