মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর(দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ছোট যমুনা নদীতে হাঁস পালন করে সফলতা অর্জন করেন জহুরুল ইসলাম ফারুক।স্ত্রী মোছাঃ জেবা বেগম এর পরামর্শে অক্লান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টায় একটি হাঁসের খামার জীবনের বাঁক বদলে দেয় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ফারুক ইসলামের।উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের জানিপুর গ্রামের মোঃ জাফর আলী ও জরিনা দম্পতির ছেলে ফারুখ জানান,৩ বছর আগে ৭০০টি হাঁস দিয়ে একটি খামার শুরু করেন। অর্থনৈতিক সংকট থাকলেও পরিচর্যা চালিয়ে যান খামারের। এরপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি তাকে।বর্তমানে ফারুকের খামারে ১০০০টি হাঁস রয়েছে। সে এবছর ফেব্রুয়ারি মাসের ২ তারিখে বগুড়ার আবু সাঈদ হাঁসের খামার থেকে ১ দিনের বাচ্চা ২৯ টাকা করে কিনে নিয়ে আসেন।সে ৩ বছর ধরে হাঁস পালন করে আসছে। গতবছর সে নেত্রকোনা থেকে ৭০০ টি ডিম পারা হাঁস কিনে আনেন তার নিজের বাঁধন রিভা হাঁস খামারে। প্রথমে প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে হাঁস পালনে সফলতার মুখ দেখেন। সে জানায় খামারের সকল হাঁসই ‘ক্যাম্বেল’ জাতের। একটি হাঁস তিন মাস একাধারে ডিম দিয়ে থাকে। ১৫-২০ দিন বিরতি দিয়ে আবারও ডিম দেয়। হাঁসের বয়স ১৭-২০ মাস হলে ওরা ডিম কম দেয়, তখন ওগুলো বিক্রি করে দেয়।ডিমগুলো ১৬-১৭ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হয়। বর্তমানে ১০০০টি হাঁসকে প্রতিদিন ২ বেলা খাবার দিতে হয় এতে তার দিন ২০০০ টাকা খরচ হয়। হাঁসের বয়স বাড়ার সাথে সাথে খরচের পরিমাণ বেড়ে যায় তখন ১০০০ হাঁসের খাবার ও ঔষধ মিলে দিন ৪০০০ টাকা খরচ হয় বলে জানিয়েছেন তিনি। বিরামপুর ছোট যমুনা নদীতে ৮০-৯০ দিনের শেড করায় খরচ অনেকটা কম হচ্ছে।নদীতে থাকা শামুক, মাছসহ প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে থাকে এসব হাঁস। এতে হাসের ডিমের পুষ্টিগুনাগুন থাকে অনেক ভালো। অপর দিকে খাবার টাকা বেঁচে যাওয়ায় হাঁস প্রতিপালনে আর্থিকভাবেও অনেক লাভবান হন এ খামারী। তার খামারে উৎপাদিত ডিমের চাহিদা রয়েছে বেশ। হাঁস এবং ডিম বিক্রি করে তিনি প্রতিমাসে আয় করছেন লক্ষাধিক টাকা।
জহুরুল ইসলাম ফারুকের হাঁসের খামারটি বিরামপুর পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের জোতজয়রামপুর এলাকায় ছোট যমুনা নদী অঞ্চলে। সেখানে গিয়ে খামার ঘুরে দেখার পর মন ভরে যায় তার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শুনে ।মা-বাবার পাশাপাশি স্ত্রী জেবা খাতুনও তাকে এই পর্যায়ে আনতে সহায়তা করেছেন বলে জানান ফারুক। গ্রামের পাশে ‘ছোট যমুনা নদী’ সারাদিন হাঁসের ঝাঁক নিয়ে থাকেন তার ভাগ্না ছায়রুদ্দিন। হাঁস শেডে পৌঁছানোর পর তাদের পরিচর্যার দায়িত্ব পড়ে চাচাতো ভাই জোবায়ের ও ভাগ্না ছায়রুদ্দিন। আর হাঁসের ওষুধ, খাবার কেনা ও ডিম বিক্রির বিষয়টা দেখেন ফারুক নিজেই। এটা তাদের নিত্যদিনের কাজ।কথার বলার এক পর্যায়ে অতীত স্মরণ করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন ফারুক। বলেন, “শুরুটা সহজ ছিল না; ধৈর্য আর কঠোর পরিশ্রমের ফল এই খামার।স্বল্প পুঁজি নিয়েও হাঁসের খামার করা যেতে পারে বলে জানালেন এ খামার মালিক। বিশেষ করে পুকুর, ডোবা অথবা খাল-বিলের পাশে খামার গড়ে তোলা উচিত। কিন্তু অনেকে হাঁসের রোগবালাই নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। সঠিক সময়ে চিকিৎসা করলে হাঁসের রোগ নির্মূল করা সম্ভব বলে জানান তিনি। প্রতিদিনই আশপাশের এলাকা থেকে অনেকে নদীর পাড়ে হাঁসের খামার দেখতে আসেন; পরামর্শ নেন। এছাড়া তার সফলতা দেখে এলাকার অনেক তরুণ স্বল্প পরিসরে হাঁসের খামার গড়ে তুলেছেন বলে জানান তিনি। সবচেয়ে আনন্দ ও সৌন্দর্য ফুটে উঠে যখন নদীর পাড়ে হাঁসগুলোকে খাবার খেতে দেওয়ার দৃশ্য দেখে। খাবারের পাত্র হাতে যখন আয়,আয়, বলে ডাক দেয়,সে দৃশ্য দেখে মনে পরে যায় সেই হ্যামিলিওনের বাঁশিওয়ালার কথা। বিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিপুল কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিরামপুর উপজেলায় দিন দিন খামারির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এ পর্যন্ত উপজেলায় প্রায় ৩৪ টি খামার রয়েছে।নদী,খাল-বিলে ভরা এ উপজেলায় হাঁস পালন ব্যাপক সম্ভাবনাময়। উপযোগী পরিবেশের কারণে অনেকেই নিজ উদ্যোগে খামার গড়ে যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছেন তেমনি ডিম ও মাংসের চাহিদা মেটাচ্ছেন।“আমরা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে হাঁস পালনকারীদের পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছি। হাঁস ও ডিমের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবং বিপণন ব্যবস্থা ভালো থাকায় লাভবান হচ্ছেন খামারিরা।