কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নে যৌতকের দাবীতে নির্যাতন করে শিউলি আক্তার নামের এক গৃহ বধূকে হত্যা করার অভিযোগে স্বামী মোঃ সুমন (৪৫) কে গ্রেফতার করেছে ব্রাহ্মণপাড়া থানাপুলিশ । এ বিষয়ে নিহতের মা ঝরনা বেগম ২১ এপ্রিল রোববার ব্রাহ্মণপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৮ বছর পূর্বে শিদলাই ইউনিয়নের লাড়ুচৌ গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে মোঃ সুমন (৪৫) এর সাথে কসবা থানার সৈয়দাবাদ গ্রামের শিউলি আক্তার (৩৫) এর সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকে স্ত্রী শিউলি আক্তারের সাথে স্বামী সুমন এর যৌতকসহ নানা বিষয় নিয়ে পারিবারিকভাবে কলহ লেগে থাকতো। এছাড়া বিবাদী সুমন বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য শিউলি আক্তারের কাছে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করতো। গত ২ মাস পূর্বে শিউলি আক্তার তার বাবার বাড়ি থেকে ৮০ হাজার টাকা এনে স্বামী সুমনের জন্য একটি ষাড় গরু কিনে দেয়। এতেও সুমন ক্ষান্ত হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ এপ্রিল শুক্রবার রাতে স্বামী সুমন তার স্ত্রীর উপর টাকার জন্য অনেক অত্যাচার করে। পরেরদিন সুমন তার স্ত্রীর বাড়িতে জানায় শিউলি আক্তারের জ্বর হয়েছে। শিউলি আক্তারের মা তাদের বাড়িতে গিয়ে মেয়েকে না দেখে খুঁজাখুজির এক পর্যায়ে সুমনের বাড়ির পশ্চিম পাশে মাজু মিয়ার ডোবার মধ্যে শিউলি আক্তারকে ওড়না দিয়ে দুই পা বাধা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ বিষয়ে নিহত শিউলি আক্তারের মা ঝরনা বেগম (৪৮) থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।শিউলির বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ২০ বছর আগে সুমন মিয়ার সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সুমন মিয়া তাকে বিভিন্ন সময় মারধর করত। তখন শিউলি আমাদের কাছে এলে সন্তানদের কথা চিন্তা করে তাকে বুঝিয়ে আবার স্বামীর সংসারে পাঠাতাম। মেয়ের সুখের কথা ভেবে বিভিন্ন সময় টাকাপয়সাও দেওয়া হয়। কয়েক দিন আগে টাকার জন্য মারধর করলে তাকে আবারও ৩০ হাজার টাকা দিই। সেই টাকা নিয়ে ঘটনার দিন তাদের দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর পর থেকে আমার মেয়েকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন শনিবার বিকেলে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় আমার মেয়ের লাশ পাওয়া যায়। এবিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে আমরা ডুবা থেকে নিহতের লাস উদ্ধার করে শোরতহাল শেষে কুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেছি। অভিযান চালিয়ে ঘাতক স্বামী সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয় এবং সোমবার দুপুরে ঘাতক সুমনকে কুমিল্লা কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।